মাউন্ট মঙ্গানুই টেস্টে জ্যাকব ডাফির বিধ্বংসী বোলিংয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ৩২৩ রানে হারিয়ে তিন ম্যাচের টেস্ট সিরিজ ২–০ ব্যবধানে নিশ্চিত করেছে নিউজিল্যান্ড। ম্যাচে ৯ উইকেট শিকার করা ডাফিকে সামনে রেখেই জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে স্বাগতিকরা।
ম্যাচের শেষ দিনে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সামনে একমাত্র লক্ষ্য ছিল কোনোভাবে ড্র নিশ্চিত করা। তবে প্রথম সেশনেই সব স্বপ্ন ভেঙে পড়ে ক্যারিবীয়দের। মাত্র ১১ রানের ব্যবধানে ৫ উইকেট হারিয়ে বড় বিপর্যয়ে পড়ে তারা। শেষ পর্যন্ত দ্বিতীয় ইনিংসে ৮০.৩ ওভারে ১৩৮ রানে অলআউট হয়ে যায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
এর আগে ডেভন কনওয়ে ও টম ল্যাথামের জোড়া সেঞ্চুরিতে নিউজিল্যান্ড ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ৪৬২ রানের বিশাল লক্ষ্য দেয়। সেই লক্ষ্য তাড়া করে জেতার তো দূরের কথা, টিকে থাকাই হয়ে দাঁড়ায় অসম্ভব চ্যালেঞ্জ।
চতুর্থ ইনিংসে ভালো শুরু এনে দেন জন ক্যাম্পবেল ও ব্রেন্ডন কিং। ৮৭ রানের উদ্বোধনী জুটি ভাঙেন জ্যাকব ডাফি। ৯৬ বলে ৬৭ রান করা কিং গ্লেন ফিলিপসের হাতে ক্যাচ দিলে শুরু হয় ধস। পরের ওভারেই ক্যাম্পবেল ও কাভেম হজকেও ফেরান কিউই বোলাররা। বিনা উইকেটে ৮৭ রান থেকে মাত্র ১০ ওভারে স্কোর দাঁড়ায় ৯৮/৫।
দ্বিতীয় সেশনে ধীরগতির ব্যাটিং করেও বিপর্যয় এড়াতে পারেনি ওয়েস্ট ইন্ডিজ। তৃতীয় সেশনে জেইডেন সিলসকে বোল্ড করে ম্যাচের ইতি টানেন ডাফি। দ্বিতীয় ইনিংসে ২২.৩ ওভারে মাত্র ৪২ রান দিয়ে ৫ উইকেট নেন এই পেসার।
পুরো ম্যাচে ৯ উইকেট নেওয়া ৩১ বছর বয়সী জ্যাকব ডাফি সিরিজে মোট ২৩ উইকেট নিয়ে হন ম্যান অব দ্য সিরিজ। নিউজিল্যান্ডের হয়ে এক টেস্ট সিরিজে এর চেয়ে বেশি উইকেট নেওয়ার কীর্তি আছে শুধু রিচার্ড হ্যাডলি (৩৩) ও ব্রুস টেলরের (২৭)।
এই জয় ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে রানের ব্যবধানে নিউজিল্যান্ডের সবচেয়ে বড় টেস্ট জয়—আগের রেকর্ড ছিল ২০১৭ সালে হ্যামিল্টনে ২৪০ রান।
ডাবল সেঞ্চুরির পর সেঞ্চুরি করা ওপেনার ডেভন কনওয়ে ম্যাচসেরার পুরস্কার পেয়েছেন। এর আগে নিউজিল্যান্ড পাঁচ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ জিতেছিল ৩–১ ব্যবধানে এবং তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে হোয়াইটওয়াশ করেছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজকে।



