জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় ইন্টারনেট সেবা বন্ধ করে গণহত্যায় সহায়তার অভিযোগে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রীর ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় ও সাবেক আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক-এর বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিয়েছেন আইটি বিশেষজ্ঞ ও তদন্ত কর্মকর্তা তানভীর জোহা।
মঙ্গলবার (৩ মার্চ) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-এ দেওয়া সাক্ষ্যে তিনি দাবি করেন, আন্দোলন দমনে পরিকল্পিতভাবে ইন্টারনেট সেবা বন্ধ করা হয়েছিল, যাতে সহিংসতা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের তথ্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে পৌঁছাতে না পারে।
মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং ১০ জন ঊর্ধ্বতন সেনা কর্মকর্তাসহ মোট ১৭ জনকে আসামি করা হয়েছে। এদের মধ্যে ১০ জন বর্তমানে কারাগারে এবং ৭ জন পলাতক বলে জানা গেছে।
অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়, ২০২৪ সালের জুলাই–আগস্টে আইসিটি মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তে একাধিক দফায় সারা দেশে ইন্টারনেট সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়। এর উদ্দেশ্য ছিল চলমান দমনপীড়ন ও হত্যাযজ্ঞের তথ্য আড়াল করা। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর আইসিটি উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্বে থাকা সজীব ওয়াজেদ জয় এবং প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক এই পরিকল্পনার অন্যতম ‘মাস্টারমাইন্ড’—এমন অভিযোগ আনা হয়েছে। আন্দোলনের সময় ইন্টারনেট শাটডাউন কার্যকর করে তারা গণহত্যায় সহায়তা করেছেন বলেও মামলায় দাবি করা হয়।
সাক্ষ্যে আরও বলা হয়, ইন্টারনেট বন্ধের বিষয়ে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান-এর সঙ্গে পলক শলাপরামর্শ করেছিলেন। আন্দোলন দমনে বিভিন্ন কৌশল নির্ধারণে তাদের মধ্যে আলোচনা হয়েছিল বলেও তদন্ত কর্মকর্তার বক্তব্য।
মামলার পরবর্তী শুনানির তারিখ পরে নির্ধারণ করা হবে বলে ট্রাইব্যুনাল সূত্রে জানা গেছে।



