26.8 C
Dhaka
Wednesday, June 10, 2026

ফতুল্লায় ইফতার মাহফিলে উত্তেজনা: ‘ফ্যাসিস্ট’ মন্তব্যে এমপি আল আমিন ২ ঘণ্টা ঘেরাও, পুলিশের হস্তক্ষেপে উদ্ধার

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় একটি ইফতার মাহফিলে বক্তব্যকে কেন্দ্র করে চরম উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেমকে ‘ফ্যাসিস্টের দোসর’ আখ্যা দেওয়ায় এনসিপির এমপি আব্দুল্লাহ আল আমিনকে প্রায় দুই ঘণ্টা ঘেরাও করে রাখেন হাতেমের অনুসারীরা। পরে অতিরিক্ত পুলিশ গিয়ে তাকে উদ্ধার করে নিরাপদে সরিয়ে নেয়।

মঙ্গলবার (৩ মার্চ) বিকেল সাড়ে ৫টা থেকে ফতুল্লার বিসিক শিল্পনগরী এলাকায় জামায়াতের সহযোগী সংগঠন পেশাজীবী ফোরাম নারায়ণগঞ্জ পূর্ব থানা শাখার আয়োজিত ইফতার মাহফিলে এ ঘটনা ঘটে।

বক্তব্য থেকেই উত্তেজনার সূত্রপাত

আয়োজিত ইফতারে অতিথি হিসেবে আমন্ত্রণ পান এমপি আব্দুল্লাহ আল আমিন ও বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের নারায়ণগঞ্জ জেলার সাবেক আমির মাওলানা মাঈনুদ্দিন আহমেদ।

জানা যায়, হাতেম আগে এসে মঞ্চে বসেন। পরে এমপি আল আমিন এসে তাকে দেখে মঞ্চে না বসে সরাসরি মাইক্রোফোন হাতে বক্তব্য শুরু করেন। তিনি বলেন, ‘আমি ফ্যাসিস্টের দোসরের সঙ্গে এক মঞ্চে বসব না।’

এ বক্তব্যের পরপরই হাতেম ইফতার অনুষ্ঠান বর্জন করে চলে যান। এরপর তার অনুসারীরা অনুষ্ঠানস্থল ঘেরাও করে বিক্ষোভ শুরু করেন।

শ্রমিকদের যোগে পরিস্থিতি উত্তপ্ত

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, একপর্যায়ে প্রায় হাজারখানেক শ্রমিক ও সাধারণ মানুষ বিক্ষোভে যোগ দেন। প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে চলে উত্তেজনা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

পরে রাত সোয়া ৮টার দিকে পুলিশ এমপি আল আমিনকে গাড়িতে তুলে নিরাপদে তার কার্যালয়ে পৌঁছে দেয়।

ফতুল্লা মডেল থানার ওসি আব্দুল মান্নান জানান, “এমপি আব্দুল্লাহ আল আমিনকে নিরাপদে তার কার্যালয়ে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।”

ব্যবসায়ীদের প্রশ্ন

স্থানীয় ব্যবসায়ীরা দাবি করেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় হাতেম সাবেক এমপি শামীম ওসমান ও তার ভাই সেলিম ওসমানের ঘনিষ্ঠ ছিলেন—এ তথ্য রাজনৈতিক অঙ্গনে পরিচিত। এমন অবস্থায় তাকে কেন ইফতার মাহফিলে আমন্ত্রণ জানানো হলো, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তারা। একই সঙ্গে অনুষ্ঠানে কারা উপস্থিত থাকবেন, তা আগেভাগে জানা উচিত ছিল বলেও মন্তব্য করেন অনেকে।

এ বিষয়ে জামায়াতে ইসলামী, এমপি আল আমিন ও মোহাম্মদ হাতেমের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

উল্লেখ্য, পুরো ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে, যা নিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা-সমালোচনা চলছে।

Related Articles

Stay Connected

5,000FansLike
4,000FollowersFollow
0SubscribersSubscribe
- Advertisement -spot_img

Latest Articles