দীর্ঘ ২০ বছরের সমৃদ্ধ ক্যারিয়ার পাড়ি দিয়ে মুশফিকুর রহিম দাঁড়িয়েছেন এক ঐতিহাসিক মাইলফলকের সামনে। বাংলাদেশের জার্সিতে প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে শততম টেস্ট খেলতে যাচ্ছেন তিনি। আগামী পরশু মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে শুরু হতে যাওয়া টেস্টেই সম্পূর্ণ হবে এই মহাগুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়, যা শুধু পরিসংখ্যান নয়— মুশফিকের দুই দশকের পরিশ্রম, শৃঙ্খলা ও অবিশ্বাস্য নিবেদন의 ফল।
আয়ারল্যান্ড দলের কোচ হেনরিখ মালান যদিও মুশফিককে খুব কাছ থেকে দেখেননি, কিন্তু তাঁর পেশাদারিত্ব দেখে মুগ্ধ না হয়ে পারেননি। আজ মিরপুরে সংবাদ সম্মেলনে মালানকে প্রশ্ন করা হয়েছিল—মুশফিকের কোন গুণটি নিজের দলের ক্রিকেটারদের নিতে বলবেন?
উত্তরে মালানের স্পষ্ট বক্তব্য,
“আমি বলব তাঁর পেশাদারিত্ব। আমি ভোরে ওঠা মানুষদের একজন। প্রতিদিন সকাল পৌনে ছয়টার দিকে তাঁকে হোটেলে দেখি নাশতা করছে। সবার আগে বাসে ওঠে। মাঠে এসে ওয়ার্ম আপ, ব্যাটিং অনুশীলন—সবই করে ফেলে, যখন বাকিরা তখনো ঠিকমতো পৌঁছায় না। এত পরিশ্রম করলে আলো তো তার ওপর পড়বেই।”
২০১৮ সালে টেস্ট ক্রিকেটে যাত্রা শুরু করা আয়ারল্যান্ড এখনো পর্যন্ত মোটে ১০টি টেস্ট (সাম্প্রতিক সিলেট টেস্টসহ ১১টি) খেলেছে। সেই তুলনায় কোনো দেশের ক্রিকেটারের ১০০ টেস্ট খেলার বিষয়টিকে বিশাল অর্জন বলেই মনে করেন মালান।
মালান বলেন,
“দেশের হয়ে ১০০ টেস্ট খেলাটা এক অসাধারণ অর্জন। আমরা দল হিসেবে মাত্র ১০টা টেস্ট খেলেছি। এখান থেকেই বোঝা যায়, কত দীর্ঘ পথ সে পাড়ি দিয়েছে। টেস্ট ক্রিকেটের জন্য সে অনেক পরিশ্রম করেছে।”
শেষে প্রতিপক্ষ হিসেবে সামান্য মজাও করলেন তিনি,
“আশা করি আগামী ৫ দিন তার জন্য খুব ভালো যাবে না (হাসি)। তবে তাঁকে অভিনন্দন।”
বাংলাদেশ ক্রিকেটের ইতিহাসে অনন্য উচ্চতায় পা রাখতে চলা মুশফিকের এই শততম টেস্ট তাই শুধু একটি ম্যাচ নয়—এটি তাঁর অনমনীয় মানসিকতা, কঠোর পরিশ্রম ও আদর্শ পেশাদারিত্বের এক স্থায়ী স্বীকৃতি।



