জুলাই অভ্যুত্থানের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেওয়া মৃত্যুদণ্ডের রায় রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী আমির হোসেনকে ব্যথিত করেছে। রায় ঘোষণার পর প্রতিক্রিয়ায় তিনি জানান, রায় মেনে নিলেও এটি “ভিন্নভাবে হতে পারত” বলে তাঁর বিশ্বাস।
রায়ে নিজের যুক্তিতর্ক আদালত গ্রহণ করেনি—এমন প্রশ্নে তিনি বলেন,
“আমার যুক্তিতর্ক নেয়নি বলব না। অনেক কিছুই নিয়েছেন। তবে মনে হয়েছে রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তি তাদের কাছে বেশি শক্তিশালী। সেই বিবেচনাতেই রায় দিয়েছেন।”
তিনি আরও যোগ করেন,
“রায় আমার আসামির বিরুদ্ধে গেছে। অবশ্যই আমি কষ্ট পাচ্ছি। আমার আপিল করার সুযোগ নেই। আমার আসামির সর্বোচ্চ সাজা হয়েছে—এটা কি আমাকে কষ্ট দেবে না?”
আত্মসমর্পণ ছাড়া আপিলের সুযোগ নেই
আইনজীবী আমির হোসেন জানান, শেখ হাসিনা গ্রেপ্তার বা আত্মসমর্পণ না করা পর্যন্ত কোনো আপিল করা সম্ভব নয়।
তিনি বলেন,
“যতক্ষণ পর্যন্ত আমার ক্লায়েন্ট আত্মসমর্পণ না করবেন বা গ্রেপ্তার না হবেন—আপিল বিভাগে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। এমনকি আমাকে রায়ের কপিও দেওয়া হবে না—এটাও আইনে আছে।”
ট্রাইব্যুনালের রায়
সোমবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় শেখ হাসিনাকে তিনটি অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড এবং দুটি অভিযোগে আমৃত্যু কারাদণ্ড প্রদান করে।
একই মামলায় আরও দুই আসামির মধ্যে—
- সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল পেয়েছেন মৃত্যুদণ্ড
- পুলিশের সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন পেয়েছেন পাঁচ বছরের কারাদণ্ড
এই রায়ের পর আইনগত প্রক্রিয়া ও ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।



