৭৪তম মিস ইউনিভার্স প্রতিযোগিতার জমজমাট আয়োজন চলছে থাইল্যান্ডের পর্যটন নগরী পাতায়ায়। সেখানে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করছেন মডেল ও অভিনেত্রী তানজিয়া জামান মিথিলা। আজ (১৯ নভেম্বর) পিপলস চয়েসে ভোট দেওয়ার শেষ দিন—এবং ঠিক এ সময়টিতেই বাংলাদেশ দাপট দেখাচ্ছে ভোটের তালিকায়।
মিস ইউনিভার্স ক্যাম্পে দুই সপ্তাহ ধরে কঠোর প্রস্তুতি, মহড়া আর নানা কার্যক্রমে অংশ নিয়ে নিজের ব্যক্তিত্ব ও দক্ষতা আরও শানিত করেছেন মিথিলা। প্রতিযোগিতার শুরুতেই বিশ্বব্যাপী ব্যাপক সাড়া পেয়ে তিনি নিজেও বিস্মিত। বললেন,
“বাংলাদেশের মানুষের সাপোর্ট আমাকে আবেগে ভাসিয়েছে। মনে হচ্ছে—আমরা এবার বড় কিছু করব।”
ভোটে শীর্ষে ওঠানামা, তবু আত্মবিশ্বাসী মিথিলা
পিপলস চয়েসে কখনো প্রথম, কখনো দ্বিতীয়—এভাবে দিনজুড়ে ভোটের অবস্থান পাল্টাচ্ছে। তবুও চ্যালেঞ্জকে গ্রহণ করেই নতুন উচ্চতায় পৌঁছাতে চান তিনি। মিথিলার ভাষায়,
“আমরা দেখিয়ে দিছি, বাঙালিরা চাইলে কতদূর এগোতে পারে। আজ শেষ দিন—আশা করি আবার বাংলাদেশ এক নম্বরে যাবে।”
ভোট দিতে মিস ইউনিভার্স অ্যাপে গিয়ে বাংলাদেশ নির্বাচন করে ‘পিপলস চয়েস’ সেকশন থেকে মিথিলার জন্য ভোট দেওয়া যাবে। বিজ্ঞাপন দেখলে অতিরিক্ত ভোট যুক্ত হয়।
পিপলস চয়েসে ১ নম্বরে থাকতে পারলে তিনি সরাসরি সেরা ৩০-এ জায়গা করে নেবেন।
দীর্ঘ পথচলার গল্প
র্যাম্প মডেলিং দিয়ে যাত্রা শুরু। ২০১৯ সালে ‘রোহিঙ্গা’ সিনেমার মাধ্যমে অভিনয়ে আত্মপ্রকাশ। এরপর ‘ফেস অব বাংলাদেশ’ ও ‘ফেস অব এশিয়া’—দুটি আন্তর্জাতিক খেতাবই জয় করেন।
২০২০ সালে ‘মিস ইউনিভার্স বাংলাদেশ’ হলেও কোভিডের কারণে মূল আসরে অংশ নিতে পারেননি তিনি।
দীর্ঘ অপেক্ষা শেষে ২০২৫ সালে আবারও সেই মুকুট মাথায় তুলে নেন।
দুই সপ্তাহের ক্যাম্প মিথিলার ভেতরে অনেক পরিবর্তন এনেছে। communication skill, discipline, teamwork—সবকিছুই তাকে নতুনভাবে গড়ে তুলেছে।
চূড়ান্ত ফল ২১ নভেম্বর
২১ নভেম্বর ঘোষণা করা হবে ফলাফল। জিতুন বা না-জিতুন—দেশবাসীর ভালোবাসাই তার বড় পাওয়া বলে মনে করেন মিথিলা।
প্রশ্ন করা হলে—জিতলে প্রথম কাজ কী করবেন?
মিথিলার উত্তর,
“সবার আগে ক্ষুধামুক্তির জন্য কাজ করব। ২০১৬ সাল থেকে বিভিন্ন সংকটে ও পথশিশুদের জন্য কাজ করছি। মিস ইউনিভার্স হলে নিজের দেশ থেকেই সে কাজ শুরু করব।”
আজকের ভোটই নির্ধারণ করতে পারে মিথিলার ভাগ্য। দেশবাসীর ভালোবাসা ও সমর্থনই তাকে এগিয়ে নিতে পারে স্বপ্নের মুকুটের দিকে।



