বিশ্বব্যাংকের সালিসি আদালতে দায়ের করা এস আলম গ্রুপের মামলার বিরুদ্ধে আইনগতভাবে লড়াই করবে বাংলাদেশ সরকার। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর।
বুধবার (১৮ ডিসেম্বর) দুপুরে সচিবালয়ে অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ ও পাচার করা অর্থ পুনরুদ্ধার সংক্রান্ত এক বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে গভর্নর এ কথা জানান।
ড. আহসান এইচ মনসুর বলেন, “এস আলম গ্রুপ বিশ্বব্যাংকের সালিসি আদালত ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর সেটেলমেন্ট অব ইনভেস্টমেন্ট ডিসপিউটসে (ICSID) যে আবেদন করেছে, তার বিরুদ্ধে বাংলাদেশ ব্যাংক আইনিভাবে লড়বে।”
প্রসঙ্গত, এস আলম গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান সাইফুল আলম ও তাঁর পরিবারের আইনজীবীরা গত ২৭ অক্টোবর যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে অবস্থিত আইসিএসআইডিতে এই আবেদন জমা দেন। লন্ডনভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ফিন্যান্সিয়াল টাইমস এ তথ্য প্রকাশ করে।
আবেদনে এস আলম পরিবার দাবি করেছে, সরকার তাদের ব্যাংক হিসাব জব্দ করেছে, সম্পদ বাজেয়াপ্ত করেছে এবং ব্যবসায়িক লেনদেন নিয়ে ‘ভিত্তিহীন তদন্ত’ চালিয়েছে। পাশাপাশি পরিবারটির বিরুদ্ধে ‘প্ররোচনামূলক মিডিয়া অভিযান’ পরিচালনা করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়। এসব কারণে শত কোটি ডলারের ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করলেও ক্ষতিপূরণের সুনির্দিষ্ট অঙ্ক উল্লেখ করা হয়নি।
২০০৪ সালে স্বাক্ষরিত বাংলাদেশ-সিঙ্গাপুর দ্বিপক্ষীয় বিনিয়োগ চুক্তির আওতায় এই সালিশি মামলা করা হয়েছে। ফিন্যান্সিয়াল টাইমস-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, এস আলম পরিবার ২০২০ সালে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব ত্যাগ করে এবং ২০২১ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে সিঙ্গাপুরের নাগরিকত্ব গ্রহণ করে। বর্তমানে তারা সিঙ্গাপুরে বসবাস করছে।
তবে গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর এই দাবিকে নাকচ করে বলেন,
“এস আলম দাবি করেছেন তিনি সিঙ্গাপুরের নাগরিক। আমরা দেখাব তিনি বাংলাদেশের নাগরিক। তিনি বাংলাদেশের বিভিন্ন ব্যাংকের চেয়ারম্যান ও পরিচালক ছিলেন। চোরের মায়ের বড় গলা। আমরা এই মামলাটি লড়ব।”
এস আলম পরিবারের অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার তাদের বিরুদ্ধে এসব শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্র জানায়, সালিসি মামলায় সরকারের অবস্থান জোরালোভাবে উপস্থাপনের জন্য আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে পরামর্শ নেওয়া হচ্ছে।



