27 C
Dhaka
Thursday, June 11, 2026

খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে জাতি এক মহান অভিভাবককে হারাল: প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস

তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী, গণতান্ত্রিক আন্দোলনের প্রতীক এবং বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

আজ মঙ্গলবার সকালে প্রধান উপদেষ্টার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক শোকবার্তায় তিনি বলেন, ‘খালেদা জিয়ার ইন্তেকালে জাতি তার এক মহান অভিভাবককে হারাল। তাঁর মৃত্যুতে আমি গভীরভাবে শোকাহত ও মর্মাহত।’

ড. ইউনূস বলেন, খালেদা জিয়া শুধু একটি রাজনৈতিক দলের নেত্রী ছিলেন না, তিনি ছিলেন বাংলাদেশের ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। তাঁর অবদান, দীর্ঘ সংগ্রাম ও জনগণের আবেগ বিবেচনায় নিয়ে সরকার চলতি মাসেই তাঁকে রাষ্ট্রের অতিগুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হিসেবে ঘোষণা করেছিল।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশে গণতন্ত্র, বহুদলীয় রাজনৈতিক সংস্কৃতি ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে খালেদা জিয়ার ভূমিকা চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। তাঁর আপসহীন নেতৃত্ব গণতন্ত্রহীন অবস্থা থেকে জাতিকে বারবার মুক্ত করেছে এবং মানুষকে অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে।

রাজনৈতিক মতপার্থক্য সত্ত্বেও দেশ ও জাতির কল্যাণে তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক যাত্রা, গণমুখী নেতৃত্ব ও দৃঢ় মনোবল সবসময় দিকনির্দেশনা দিয়েছে বলে উল্লেখ করেন ড. ইউনূস। তিনি বলেন, ‘তাঁর মৃত্যুতে দেশ একজন অভিজ্ঞ ও পরীক্ষিত রাজনীতিককে হারাল।’

শোকবার্তায় উল্লেখ করা হয়, খালেদা জিয়া ছিলেন বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন। স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের লড়াইয়ে তিনি নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। স্বামী শহীদ রাষ্ট্রপতি ও বীর মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পর ১৯৮২ সালে রাজনীতিতে প্রবেশ করে তাঁর বলিষ্ঠ নেতৃত্বই এরশাদের দীর্ঘ ৯ বছরের স্বৈরশাসনের পতনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

ড. ইউনূস আরও বলেন, খালেদা জিয়ার বহু সিদ্ধান্ত ও কর্মসূচি দেশকে এগিয়ে নিয়েছে। মেয়েদের জন্য অবৈতনিক শিক্ষা ও উপবৃত্তি চালু করা বাংলাদেশের নারীশিক্ষার অগ্রগতিতে একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক।

রাজনৈতিক সাফল্যের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, খালেদা জিয়া কখনো কোনো নির্বাচনে পরাজিত হননি। ১৯৯১ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত পাঁচটি ভিন্ন আসন থেকে এবং ২০০৮ সালে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা তিনটি আসনেই তিনি জয়লাভ করেন।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ১৯৯১ সালে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর অর্থনৈতিক উদারীকরণের মাধ্যমে তিনি দেশের অর্থনীতির একটি শক্ত ভিত্তি স্থাপন করেন। শেখ হাসিনার ফ্যাসিবাদী শাসনামলে খালেদা জিয়া ছিলেন সংগ্রাম ও প্রতিরোধের এক অনন্য প্রতীক।

শোকবার্তায় আরও বলা হয়, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়ে তাঁকে মিথ্যা ও বানোয়াট মামলায় ১৭ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল এবং দীর্ঘদিন তাঁকে কারাবরণ করতে হয়।

শেষে প্রধান উপদেষ্টা খালেদা জিয়ার শোকসন্তপ্ত পরিবার ও বিএনপির নেতা-কর্মীদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। একই সঙ্গে এই অপূরণীয় ক্ষতির সময়ে দেশবাসীকে শান্ত ও ধৈর্যশীল থাকার আহ্বান জানিয়ে তাঁর বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনায় দোয়া ও প্রার্থনার অনুরোধ করেন।

Related Articles

Stay Connected

5,000FansLike
4,000FollowersFollow
0SubscribersSubscribe
- Advertisement -spot_img

Latest Articles