জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের সময় সাভারের আশুলিয়ায় ছয়জনের লাশ পুড়িয়ে হত্যা ও আরও একজনকে হত্যার ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ছয়জনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল–২। একই মামলায় সাতজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড, দুজনকে সাত বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড এবং একজনকে ক্ষমা করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (আজ) বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল–২ এ রায় ঘোষণা করেন। বেঞ্চের অন্য দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।
🔹 মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ছয় আসামি হলেন—
সাবেক সংসদ সদস্য মুহাম্মদ সাইফুল ইসলাম,
আশুলিয়া থানার সাবেক ওসি এ এফ এম সায়েদ,
সাবেক এসআই আবদুল মালেক,
সাবেক এএসআই বিশ্বজিৎ সাহা,
সাবেক কনস্টেবল মুকুল চোকদার
এবং যুবলীগ ক্যাডার রনি ভূঁইয়া।
🔹 যাবজ্জীবন কারাদণ্ড
যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত সাত আসামির মধ্যে রয়েছেন—
ঢাকা রেঞ্জের সাবেক ডিআইজি সৈয়দ নুরুল ইসলাম,
ঢাকা জেলার সাবেক এসপি মো. আসাদুজ্জামান রিপন,
সাবেক অতিরিক্ত এসপি আবদুল্লাহিল কাফী,
সাভার সার্কেলের সাবেক অতিরিক্ত এসপি মো. শহিদুল ইসলাম,
সাবেক পরিদর্শক মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান,
নির্মল কুমার দাস
ও ডিবি উত্তরের সাবেক পরিদর্শক মো. আরাফাত হোসেন।
🔹 অন্যান্য দণ্ড
আশুলিয়া থানার সাবেক এসআই আরাফাত উদ্দীন ও কামরুল হাসানকে সাত বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, সাবেক এসআই শেখ আবজালুল হক এই মামলায় রাজসাক্ষী (অ্যাপ্রুভার) হওয়ায় তাঁকে ক্ষমা করা হয়েছে।
🔹 আসামিদের অবস্থা
মামলার মোট আসামি ১৬ জন। তাঁদের মধ্যে আটজন কারাগারে রয়েছেন এবং আটজন পলাতক। পলাতকদের মধ্যে মৃত্যুদণ্ড ও যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত একাধিক সাবেক শীর্ষ পুলিশ কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক নেতা রয়েছেন।
🔹 ভয়াবহ সেই ঘটনা
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের দিন আশুলিয়া থানার এলাকায় ছয়জনকে গুলি করে হত্যা করা হয় এবং তাঁদের লাশ পুড়িয়ে ফেলা হয়। নিহতদের একজন তখনো জীবিত ছিলেন বলে আদালতে উঠে আসে। নিহতদের মধ্যে ছিলেন সাজ্জাদ হোসেন, আস–সাবুর, তানজিল মাহমুদ, বায়েজিদ বোস্তামী ও আবুল হোসেনসহ আরও কয়েকজন।
🔹 ঐতিহাসিক রায়
জুলাই গণ–অভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল–২ থেকে এটি প্রথম রায়। এর আগে ট্রাইব্যুনাল–১ থেকে একাধিক মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও সাবেক আইজিপিসহ শীর্ষ পর্যায়ের ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে রায় দেওয়া হয়।
এই রায়কে জুলাই গণ–অভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে।



