দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আবারও ৩৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ছাড়িয়েছে। মঙ্গলবার দিন শেষে রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩৫ দশমিক ০৪ বিলিয়ন ডলারে, জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (বিপিএম৬) হিসাবপদ্ধতি অনুযায়ী রিজার্ভের পরিমাণ হবে ৩০ দশমিক ৩০ বিলিয়ন ডলার।
এর আগে ২০২০ সালের জুনে প্রথমবারের মতো রিজার্ভ ৩৫ বিলিয়ন ডলারের ঘর স্পর্শ করেছিল। তখন করোনাভাইরাস মহামারিতে বৈশ্বিক অর্থনীতি স্থবির হয়ে পড়লেও আন্তর্জাতিক চলাচল বন্ধ থাকায় হুন্ডি কার্যক্রম কমে যায় এবং প্রবাসী আয় বেড়ে যায়। এবারও হুন্ডি ও অর্থ পাচার রোধের উদ্যোগের পাশাপাশি প্রবাসী আয় বৃদ্ধিই রিজার্ভ বাড়াতে বড় ভূমিকা রেখেছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
লক্ষ্যমাত্রা ছাড়ানোর আশা
গত ১৯ জানুয়ারি বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর বলেছিলেন, চলতি ২০২৫–২৬ অর্থবছরে ৩৫ বিলিয়ন ডলারের রিজার্ভের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব হবে এবং আইএমএফের ঋণের কিস্তি ছাড়াই তা অতিক্রম করা যাবে।
দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ রিজার্ভ ছিল ২০২১ সালের আগস্টে, যখন তা ৪৮ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছিল। সে সময় আন্তব্যাংক বাজারে প্রতি ডলারের দর ছিল ৮৪ টাকা ২০ পয়সা। পরবর্তী সময়ে ঋণসংক্রান্ত অনিয়ম, অর্থ পাচার ও বৈদেশিক লেনদেনের চাপে রিজার্ভ কমতে থাকে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের সময় রিজার্ভ নেমে আসে ২৫ দশমিক ৯২ বিলিয়ন ডলারে (বিপিএম৬ অনুযায়ী ২০ দশমিক ৪৮ বিলিয়ন ডলার)। একই সময়ে ডলারের দর বেড়ে ১২০ টাকা ছাড়িয়ে যায় এবং আমদানি নিয়ন্ত্রণে নানা বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়।
প্রবাসী আয় ও নীতিগত পরিবর্তনের প্রভাব
অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর ডলারের দাম বাজারের ওপর ছেড়ে দেওয়া, প্রবাসী আয় বাড়ানোর উদ্যোগ এবং ধীরে ধীরে আমদানি বিধিনিষেধ শিথিল করার নীতির ফলে বৈদেশিক মুদ্রার প্রবাহ বেড়েছে। এর ধারাবাহিকতায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাজার থেকে ডলার কিনছে।
চলতি ফেব্রুয়ারির প্রথম ২৩ দিনে দেশে এসেছে ২৫৬ কোটি ৭০ লাখ ডলারের রেমিট্যান্স, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২৩ শতাংশ বেশি। জানুয়ারিতে এসেছে ৩১৭ কোটি ডলার এবং ডিসেম্বরে ৩২২ কোটি ডলার।
সূত্র জানায়, চলতি অর্থবছরে এখন পর্যন্ত ব্যাংকগুলো থেকে ৫ বিলিয়ন ডলারের বেশি কিনেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। শুধু চলতি মাসেই কেনা হয়েছে ১৫৩ কোটি ডলার। এই ধারাবাহিক ক্রয়ের ফলেই রিজার্ভ নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে।
সামনে চ্যালেঞ্জ
খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, এত দিন বড় ধরনের নতুন বিনিয়োগ না থাকায় আমদানি চাপ কম ছিল, ফলে রিজার্ভ বেড়েছে। তবে নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর বিনিয়োগ বাড়লে মূলধনি যন্ত্রপাতি ও কাঁচামাল আমদানি বাড়তে পারে। এতে ডলারের চাহিদা বাড়বে। বিশ্লেষকদের মতে, অর্থ পাচার নিয়ন্ত্রণে থাকলে এবং রপ্তানি আয় বাড়লে ডলারবাজারে বড় ধরনের সংকট তৈরি হওয়ার আশঙ্কা কম।



