এশিয়ার মঞ্চে প্রথম উপস্থিতিতেই সাহসী পারফরম্যান্স উপহার দিল বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল। রেকর্ড ৯ বারের চ্যাম্পিয়ন চীনের বিপক্ষে চোখে চোখ রেখে লড়লেও শেষ পর্যন্ত ২-০ গোলে হার নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয়েছে পিটার বাটলারের শিষ্যদের।
সিডনির কমব্যাংক স্টেডিয়ামে শুরু থেকেই আত্মবিশ্বাসী ফুটবল খেলেছে বাংলাদেশ। ম্যাচের ১৪ মিনিটে প্রায় ৩৫ গজ দূর থেকে দুর্দান্ত শট নেন ঋতুপর্ণা চাকমা। গোলের দিকেই ছুটে যাচ্ছিল বল, কিন্তু চীনের গোলরক্ষক চেন চেন লাফিয়ে ফিস্ট করে বিপদ সামাল দেন। সম্ভাব্য এক ঐতিহাসিক গোল থেকে বঞ্চিত হন ঋতু, হতাশায় মাথায় হাত দেন তিনি। গ্যালারিতে থাকা প্রবাসী বাংলাদেশিরাও আক্ষেপে নিঃশ্বাস ফেলেন।
প্রথমার্ধে বাংলাদেশের রক্ষণ ছিল বেশ সংগঠিত। ২৪ মিনিটে চীনের একটি গোল ভিএআরে অফসাইডের কারণে বাতিল হয়—যা বাংলাদেশের ফুটবল ইতিহাসে ভিএআরের মাধ্যমে নেওয়া প্রথম সিদ্ধান্ত হিসেবে জায়গা করে নেয়।
তবে বিরতির ঠিক আগে ম্যাচের মোড় ঘুরে যায়। ৪৪ মিনিটে থ্রু পাস থেকে ওয়াংয়ের দৃষ্টিনন্দন শটে এগিয়ে যায় চীন। যোগ করা সময়ে আরেকটি আক্রমণ থেকে ঝ্যাং রুইয়ের শট ডিফেন্ডার কোহাতি কিসকুর পায়ে লেগে দিক পরিবর্তন করে জালে জড়ায়। প্রথমার্ধেই ২-০ ব্যবধান গড়ে ফেলে চায়নিজরা।
দ্বিতীয়ার্ধে কোচ পিটার বাটলার একাধিক পরিবর্তন আনেন। তহুরা খাতুন ও হালিমাদের মাঠে নামানো হয়, শেষ দিকে অভিষেক হয় সুইডেনপ্রবাসী আনিকা রানিয়া সিদ্দিকীরও। চেষ্টা চালালেও গোলের দেখা পায়নি বাংলাদেশ। তবে শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে রক্ষণভাগ আর ভাঙতে দেয়নি লাল-সবুজের মেয়েরা।
র্যাংকিংয়ের ১৭তম দলের বিপক্ষে এমন প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ পারফরম্যান্স বাংলাদেশের আত্মবিশ্বাস বাড়াবে বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা। গ্যালারিতে লাল-সবুজের পতাকা হাতে প্রবাসী বাংলাদেশিদের উপস্থিতি ম্যাচে বাড়তি অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে দলকে।
আগামী শুক্রবার (৬ মার্চ) একই ভেন্যুতে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে উত্তর কোরিয়ার মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। এর আগে উজবেকিস্তানকে ৩-০ গোলে হারিয়ে টুর্নামেন্টে শুভ সূচনা করেছে উত্তর কোরিয়া।



