বিশ্বব্যাপী সংঘাতে গত বছর ১২ হাজার শিশু হতাহত: সেভ দ্য চিলড্রেন
২০২৪ সালে বিশ্বের বিভিন্ন সংঘাতে ১২ হাজারের বেশি শিশু নিহত বা আহত হয়েছে, যা ২০০৬ সালে নথিভুক্তকরণ শুরুর পর সর্বোচ্চ। যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংস্থা সেভ দ্য চিলড্রেন জানায়, এ হতাহতের ৭০ শতাংশই বিস্ফোরক অস্ত্রের কারণে।
সংস্থার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের শিশু হতাহতের সংখ্যা ২০২০ সালের চেয়ে ৪২ শতাংশ বেশি। এর মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি ছিল গাজা ও অধিকৃত পশ্চিম তীরে। এরপর সুদান, মিয়ানমার, ইউক্রেন ও সিরিয়ায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে।
ইউনিসেফ জানায়, ইসরায়েলি হামলায় শুধু গাজাতেই ৬৪ হাজারের বেশি শিশু নিহত বা আহত হয়েছে। ঘরবাড়ি, স্কুল ও হাসপাতাল ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় জরুরি চিকিৎসা ব্যবস্থা অচল হয়ে পড়েছে। সেভ দ্য চিলড্রেন বলছে, গাজায় এখন “আধুনিক ইতিহাসের সবচেয়ে বড় শিশু অঙ্গচ্ছেদ সংকট” তৈরি হয়েছে।
সুদানে প্রায় ১ কোটি শিশু যুদ্ধক্ষেত্রের পাঁচ কিলোমিটারের মধ্যে বসবাস করছে। সেখানে ২০২৩ সালে হতাহত ছিল ১,২০০ শিশু; ২০২৪ সালে তা বেড়ে হয়েছে ১,৭৩৯ জন। ইউক্রেনে বিস্ফোরক অস্ত্রে আহত শিশুদের হার ৭০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শারীরিক ও আচরণগত বৈশিষ্ট্যের কারণে বিস্ফোরক হামলায় শিশুরা প্রাপ্তবয়স্কদের তুলনায় অনেক বেশি ঝুঁকিতে থাকে। বিস্ফোরণে আহত শিশুদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসন দীর্ঘমেয়াদি এবং অত্যন্ত জটিল।
তারা সতর্ক করে বলেন, যুদ্ধ শেষ হলেও বিস্ফোরকের প্রভাব বহু বছর থাকে। অবিস্ফোরিত গোলাবারুদ যেকোনো সময় প্রাণহানি ঘটাতে পারে, আর বিস্ফোরণের মানসিক আঘাত একটি পুরো প্রজন্মের মানসিক সুস্থতায় স্থায়ী ক্ষতি ফেলতে পারে।



