26.8 C
Dhaka
Wednesday, June 10, 2026

অকাল বর্ষণে আধাপাকা ধান ও আগাম আলু চাষে ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা

জয়পুরহাটে কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে ফসলি মাঠ। আধাপাকা আমন ধান হেলে পড়েছে, আর সদ্য রোপণ করা আগাম আলুর জমিতে পানি জমে নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। শীতকালীন সবজি ক্ষেতেও দেখা দিয়েছে শিকড়পচা ও ফুল–ফল ঝরে পড়ার সমস্যা।

এ বছর আগাম আলু রোপণে জেলায় চাষিরা বাড়তি আগ্রহ দেখান। গত বছরের লোকসান পোষাতে এবার ভালো দামের আশায় আগাম আলু লাগিয়েছিলেন তারা। কিন্তু সাম্প্রতিক টানা বর্ষণে সেই আশা এখন পানিতে ভাসছে। হিমাগারে আগের মৌসুমের ৮৪ হাজার মেট্রিক টনের বেশি আলু জমে থাকায় চাষিরা আগে থেকেই চাপে ছিলেন। তার ওপর নতুন ক্ষতির দুঃসংবাদ।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, জেলায়

  • ৭০,০৯৫ হেক্টর জমিতে আমন ধান,
  • ১,৯৯৫ হেক্টর জমিতে শীতকালীন সবজি,
  • ৩৯ হাজার হেক্টর লক্ষ্য নিয়ে আলু চাষ,
    এর মধ্যে ৭৭৭ হেক্টরে আগাম আলু ইতোমধ্যে রোপণ হয়েছে

গত কয়েক দিনের বৃষ্টিতে ৮৫ হেক্টর আলু, ৩৩৭ হেক্টর আমন ধান ও ২৭ হেক্টর সবজির জমি পানিতে তলিয়ে আছে

কৃষকেরা জানান, আলুর বীজ একটু বেশি পানি পেলেই পচে যায়। ফলে জমিতে পানি দাঁড়িয়ে থাকায় অনেকেই পুরো ফসল নষ্ট হওয়ার আশঙ্কায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।

সদর উপজেলার কৃষক গোলাপ হোসেন বলেন,
“গত বছর আলু চাষে অনেক ক্ষতি হয়েছে। আগাম আলু লাগালে ভালো দাম পাবো মনে করেছিলাম। কিন্তু বৃষ্টিতে জমি ডুবে আছে—বীজ ওঠাই কঠিন হয়ে যাচ্ছে।”

বৃষ্টিতে আমন ধানও ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অনেক কৃষক বলছেন, ধান পাকতে শুরু করেছে, কিন্তু পানি জমায় জমি থেকে ধান ওঠানো নিয়েই সন্দেহ তৈরি হয়েছে।

কালাই উপজেলার কৃষক আজিজার রহমান বলেন,
“আধা-পাকা ধান মাটিতে নুয়ে পড়েছে। এই ধান আর ঘরে উঠবে না।”

জেলা কৃষি অফিস বলছে, বৃষ্টি হলেও ভারী বর্ষণ বা বন্যা হয়নি। ফলে ক্ষতি খুব বড় হবে না—এমন আশা করছেন তারা। তবে কৃষকেরা বলছেন, জমিতে পানি যতক্ষণ থাকবে, ততক্ষণ ঝুঁকি থেকেই যাচ্ছে।

Related Articles

Stay Connected

5,000FansLike
4,000FollowersFollow
0SubscribersSubscribe
- Advertisement -spot_img

Latest Articles