গাজায় ইসরায়েল-সমর্থিত মিলিশিয়া গোষ্ঠী পপুলার ফোর্সেস–এর নেতা ইয়াসির আবু শাবাবকে অতর্কিত হামলায় হত্যা করেছে ফিলিস্তিনের সশস্ত্র সংগঠন হামাস। কাসেম ব্রিগেডের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, গভীর পরিকল্পনা ও ভেতর থেকে অনুপ্রবেশের কৌশল ব্যবহার করে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
গত বৃহস্পতিবার রাফায় হামাসের এই বিশেষ অভিযান গাজায় ইসরায়েলের বিকল্প সশস্ত্র শক্তি গড়ে তোলার প্রচেষ্টায় বড় আঘাত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ইসরায়েলের হয়ে গাজায় দমনপীড়ন চালাত পপুলার ফোর্সেস
ফিলিস্তিনিদের কাছে পপুলার ফোর্সেস ছিল একধরনের ইসরায়েলি ভাড়াটে বাহিনী—যারা
- বাড়ি তল্লাশি,
- বিস্ফোরক অপসারণ,
- যোদ্ধাদের হত্যা,
- অস্ত্র লুট
ইত্যাদি কর্মকাণ্ডে যুক্ত ছিল।
বাহিনীটিকে অস্ত্র দিত ইসরায়েল। এই বাহিনীর প্রধান ছিলেন আবু শাবাব, যার অধীনে ছিল প্রায় ১০০ সশস্ত্র সদস্য।
গত জুনে স্বয়ং ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু গাজায় একটি সশস্ত্র বাহিনীকে সমর্থনের কথা উল্লেখ করেন—যদিও নাম বলেননি।
যেভাবে হত্যা: ভেতর থেকে নিখুঁত পরিকল্পনা
সূত্র জানায়, হামাস প্রথমে এক তরুণ যোদ্ধাকে পপুলার ফোর্সেসে যোগদানের নাটক সাজিয়ে তাদের ভেতরে পাঠায়।
সুযোগ বুঝে তিনিই পরিকল্পনার বাস্তবায়ন করেন।
হামলার সময় পপুলার ফোর্সেসের সদস্যরা ইসরায়েলি ট্যাংকের কাছে আশ্রয় নিয়েছিল, কারণ তাদের ধারণা ছিল—
হামলা বাইরে থেকে আসবে, ভেতর থেকে নয়।
এই ভুল হিসেবই তাদের প্রাণঘাতী ভুল প্রমাণ হয়।
হামলায় আবু শাবাব ছাড়াও তাঁর কয়েকজন ঘনিষ্ঠ সহযোগী নিহত হন।
ইসরায়েলের কৌশলে বড় আঘাত
সূত্র বলছে—এই অভিযানে
- রাফার একটি বড় অংশ মিলিশিয়াদের দখলমুক্ত হয়েছে
- ইসরায়েলের ‘মিলিশিয়া–নিয়ন্ত্রিত নিরাপদ অঞ্চল’ কৌশল ধসেছে
- প্রতিরোধ সংগ্রাম আরও শক্ত অবস্থানে ফিরেছে।
অপরাধী থেকে ইসরায়েলপন্থী নেতা—বিতর্কিত শাবাবের উত্থান ও পতন
৩০-এর কোঠায় বয়সী আবু শাবাব আগে ছিলেন সম্পূর্ণ অচেনা মুখ।
- গাজা কর্তৃপক্ষ তাঁকে মাদকসংক্রান্ত অভিযোগে গ্রেপ্তার করে কয়েক বছর কারাবন্দী করেছিল।
- গাজা যুদ্ধের প্রথম দিকে তিনি কারাগার থেকে পালিয়ে যান।
- তারপর ইসরায়েলের সহায়তায় গাজায় নিজস্ব মিলিশিয়া গড়ে তোলেন।
তবে তিনি নিজের তারাবিন বেদুইন গোত্রের সমর্থনও হারিয়েছিলেন।
তারাবিন গোত্র তাঁর মৃত্যুর পর বিবৃতিতে বলেছে—
“অন্ধকার এক অধ্যায়ের সমাপ্তি হয়েছে। এটি আমাদের গোত্রের পরিচয় বহন করে না।”
শেষ কথা
হামাসের এই অভিযান শুধু আবু শাবাবকে হত্যাই নয়—
গাজায় ইসরায়েলের পৃষ্ঠপোষকতায় গড়ে ওঠা মিলিশিয়া নিয়ন্ত্রণের পুরো পরিকল্পনাকেই বড় ধাক্কা দিয়েছে।
রাফায় এখন নতুন করে প্রতিরোধ শক্তির প্রভাব দৃশ্যমান।



