ইন্টার মায়ামি ৩–১ ভ্যাঙ্কুভার হোয়াইটক্যাপস
ফ্লোরিডার ফোর্ট লডারডেলের চেজ স্টেডিয়াম যেন রূপ নিল গোলাপি উৎসবে। কনফেত্তি উড়ছে, গ্যালারিতে টানটান উত্তেজনা আর মাঠের কেন্দ্রে উঁচু হয়ে ধরা এমএলএস কাপ—যার হাতল ধরে দাঁড়িয়ে লিওনেল মেসি। ক্যারিয়ারের ৪৭তম শিরোপা, যা ফুটবল ইতিহাসে সর্বোচ্চ।
সমালোচনা, সন্দেহ, অস্থিরতা—সব কিছুর জবাব এক রাতে দিয়ে দিল ইন্টার মায়ামি। ভ্যাঙ্কুভার হোয়াইটক্যাপসকে ৩–১ গোলে হারিয়ে প্রথমবারের মতো এমএলএস কাপ চ্যাম্পিয়ন হলো দলটি।
অবিশ্বাস্য যাত্রার অবশেষে সাফল্য
২০২৫ সালে ৫৮টি ম্যাচ খেলেছে মায়ামি—এমএলএস ইতিহাসে এক মৌসুমে কোনো দলের সর্বোচ্চ ম্যাচ। নানা প্রতিযোগিতা, ইনজুরি আর দলে ভারসাম্যহীনতার মাঝেও কোচ হাভিয়ের মাচেরানোর দল শেষ পর্যন্ত নিজেদের সেরাটা দিতে পেরেছে।
মায়ামির এই সাফল্যের পেছনে সবচেয়ে বড় নাম—লিওনেল মেসি। ফাইনালের তিন গোলেই তাঁর প্রত্যক্ষ হাত।
মেসি-জাদুই বদলে দিল ম্যাচের গল্প
প্রথম গোলটা এল মেসির ডান দিক থেকে তৈরি করা চমৎকার আক্রমণ থেকে—যদিও সেটি আত্মঘাতী।
এরপর ৬০ মিনিটে আলী আহমেদ গোল করে ম্যাচে ফিরিয়ে আনেন ভ্যাঙ্কুভারকে।
কিন্তু আর্জেন্টাইন ম্যাজিক থেমে থাকেনি।
- ৭১ মিনিটে মেসির পাস থেকেই গোল করেন রদ্রিগো দি পল।
- পরে তাদেও আলেন্দি মেসির দারুণ লব থেকে গোল করে ৩–১ করে দেন।
কোচ মাচেরানোও উত্তেজনায় মাঠে ঢুকে ঘাসে চুমু খেলেন—এমন দৃশ্য ক্যারিয়ারে অনেকদিন মনে রাখবেন মায়ামি সমর্থকেরা।
মেসিকে থামাতে ব্যর্থ ভ্যাঙ্কুভার
প্রথমার্ধে ভ্যাঙ্কুভার আধিপত্য দেখালেও সেটি যথেষ্ট হয়নি। এমানুয়েল সাবি, ব্রায়ান হোয়াইটদের প্রচেষ্টা বারবার ফিরেছে পোস্টে বা রোকো রিওস নভোর হাতে।
মধ্যমাঠে মেসি বনাম আন্দ্রেস কুবাস লড়াই ছিল চোখে পড়ার মতো। প্যারাগুয়ের এই মিডফিল্ডার মেসিকে কয়েকবার প্ররোচিত করেছিলেন। এর ফল মিলল দ্রুতই—সমতায় ফেরার পরই মেসির কাছ থেকে বল হারিয়ে দল গোল খায় কুবাস।
শেষ ম্যাচে আলবা-বুস্কেতসকে আবেগঘন বিদায়
জর্দি আলবা ও সার্জিও বুস্কেতসের শেষ পেশাদার ম্যাচটিও হয়ে রইল স্মরণীয়। মাঠ ছাড়ার সময় গ্যালারি দাঁড়িয়ে তালি দিয়েছে দুই বার্সেলোনা কিংবদন্তিকে।
চেজ স্টেডিয়ামের শেষ রাতে আলো ছড়াল ইতিহাস
ফ্লোরিডার অস্থায়ী ইস্পাতের স্টেডিয়াম চেজ—যা নির্মাণশৈলীতে সাদামাটা হলেও—মেসি আগমনের পর হয়ে উঠেছিল ‘গোলাপি দুর্গ’। সেই স্টেডিয়ামে শেষ ম্যাচেই দল শিরোপা জিতল।
আগামী বছর মায়ামি খেলবে নতুন ঠিকানা মায়ামি ফ্রিডম পার্কে, আর সেখানে পা রাখবে চ্যাম্পিয়ন হিসেবে।



