তফসিল ঘোষণার একেবারে আগমুহূর্তে অন্তর্বর্তী সরকারের বড় ধরনের পরিবর্তন আসছে। তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা মাহফুজ আলম এবং স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া—এই দুই ছাত্র প্রতিনিধি আজ বুধবারই পদত্যাগ করছেন বলে নিশ্চিত করেছেন সরকারের দায়িত্বশীল সূত্র।
সরকারি ঊর্ধ্বতন মহলের সঙ্গে গতকাল মঙ্গলবার বৈঠকের পর তাঁদের পদত্যাগ প্রায় চূড়ান্ত হয়। নির্বাচন কমিশন আজ সন্ধ্যায় বা আগামীকাল তফসিল ঘোষণা করতে পারে—এর আগেই দুজনই পদ ছাড়বেন বলে জানা গেছে।
কেন এই পদত্যাগ?
অন্তর্বর্তী সরকারের শীর্ষ পর্যায়ে আগে থেকেই মত ছিল—
তফসিল ঘোষণার পর ছাত্র প্রতিনিধি উপদেষ্টাদের সরকারে থাকা উচিত নয়, তাঁরা নির্বাচন করুন বা না করুন।
সরকারের উচ্চপর্যায়ের পরামর্শ অনুযায়ী দুইজনই অবশেষে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে তাঁদের প্রতি তাগাদা ছিল, তবে তাঁরা সময় চেয়েছিলেন। শেষ পর্যন্ত তফসিলের ঠিক আগে সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হলো।
সংবাদ সম্মেলন আজ বিকেল ৩টায়
স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ আজ বেলা ৩টায় সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলন ডেকেছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে—
এই সংবাদ সম্মেলনেই তিনি নিজের পদত্যাগের ঘোষণা দিতে পারেন।
উপদেষ্টা মাহফুজ আলমও আজই পদত্যাগপত্র জমা দেবেন বলে জানা গেছে।
নেপথ্যের রাজনৈতিক সমীকরণ
- জুলাই অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া ছাত্রনেতাদের মধ্য থেকে আসিফ ও মাহফুজ উপদেষ্টা পরিষদে স্থান পেয়েছিলেন।
- এর আগে নাহিদ ইসলাম উপদেষ্টা পদ ছেড়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক হন।
- এনসিপিতেও মাহফুজ ও আসিফের প্রভাব রয়েছে, যদিও তাঁরা সেখানে কোনো পদে আনুষ্ঠানিকভাবে নেই।
তারা কোথা থেকে ভোট করবেন?
🔸 আসিফ মাহমুদ
- ধানমন্ডিতে ভোটার হওয়ার আবেদন করেছেন।
- আলোচনায় রয়েছে ঢাকা-১০ আসন থেকে স্বতন্ত্র বা কোনো দলীয় প্রতীক নিয়ে নির্বাচন।
- বিএনপির সঙ্গে তাঁর যোগাযোগের গুঞ্জনও ছিল, যদিও বিএনপি ইতোমধ্যে ঢাকা-১০ আসনে নিজস্ব প্রার্থী ঘোষণা করেছে।
- ফলে তিনি কোন দল থেকে বা স্বতন্ত্রভাবে ভোট করবেন—এখনো নিশ্চিত নয়।
🔸 মাহফুজ আলম
- গ্রাম লক্ষ্মীপুর–১; বিএনপি এই আসনে প্রার্থী না দেওয়ায় তাঁর সম্ভাবনা ছিল।
- কিন্তু সর্বশেষ এলডিপির শাহাদাত হোসেন সেলিম বিএনপিতে যোগ দিয়ে এই আসন থেকে মনোনয়ন নিশ্চিত করেছেন।
- ফলে মাহফুজের বিএনপির সমর্থনে নির্বাচন করার পথ প্রায় বন্ধ।
এদিকে নতুন রাজনৈতিক জোট এনসিপি–এবি পার্টি–রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন আত্মপ্রকাশ করায়, তাঁরা ঐ জোট থেকেও প্রার্থী হতে পারেন বলে ধারণা রাজনৈতিক মহলের।



