আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়ায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে দলটির ভবিষ্যৎ প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়েছে। আসন্ন ভোটে দলটি অংশ নিতে পারবে না—এ বিষয়টি ঢাকা–দিল্লি কূটনৈতিক বৈঠকসহ আন্তর্জাতিক মহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। তবে এসব আলোচনায় কোনো নির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত হয়নি বলে সরকারি সূত্র জানিয়েছে।
সরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করা হয়েছে—
দল নিষিদ্ধ থাকায় আওয়ামী লীগ হিসেবে নির্বাচন করা সম্ভব নয়, তবে ‘ক্লিন ইমেজের’ নেতারা স্বতন্ত্র প্রার্থী হতে পারবেন।
কারা পারবেন, কারা পারবেন না?
সরকারি সূত্র জানায়—
- যাদের বিরুদ্ধে অপরাধ, দুর্নীতি বা মানবতাবিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগ নেই, শুধু তারাই স্বতন্ত্র প্রার্থী হতে পারবেন।
- মামলা-মোকদ্দমা, গুরুতর অভিযোগ বা মানবতাবিরোধী অপরাধ সংশ্লিষ্ট কোনো আওয়ামী লীগ নেতা এই সুযোগ পাবেন না।
- মানবতাবিরোধী অপরাধে সম্পৃক্ততার অভিযোগের কারণেই গত ১২ মে প্রজ্ঞাপন দিয়ে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়।
আন্তর্জাতিক মহলের আগ্রহ
যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ বিভিন্ন পশ্চিমা দেশও সরকারের সঙ্গে অনানুষ্ঠানিক আলোচনায় আওয়ামী লীগের অংশগ্রহণ নিয়ে জানতে চেয়েছে।
সরকার একই উত্তর দিয়েছে—
দল হিসেবে নয়, স্বতন্ত্র হিসেবে নির্বাচনে আসতে পারবেন শুধু পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তিসম্পন্ন নেতারা।
দলের ভেতরে নতুন উদ্যোগ—কিন্তু শেখ হাসিনার ‘না’
দলীয় সূত্র জানায়—
নিষিদ্ধ হওয়ার পর আওয়ামী লীগের কিছু ‘ক্লিন ইমেজ’ নেতা নতুনভাবে সংগঠিত হয়ে রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম তৈরি করতে চেয়েছিলেন।
কিন্তু সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এতে সম্মতি দেননি।
তিনি বিশ্বাস করেন—
আন্দোলন ও সংগ্রামের মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগকে আবারও সংগঠিত করা সম্ভব।
ফলে নতুন কোনো সংগঠন বা প্ল্যাটফর্ম তৈরির উদ্যোগ বন্ধ হয়ে গেছে।
নিষিদ্ধ অবস্থায় আওয়ামী লীগ আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনে না আসলেও,
দলের ‘পরিচ্ছন্ন’ নেতাদের স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার অনুমতি দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে।
আন্তর্জাতিক মহলও নজর রাখছে এই পরিস্থিতির দিকে।
সূত্র : মানবজমিন



