রাজধানীর মোহাম্মদপুরে মাত্র ২ হাজার টাকা চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে লোমহর্ষক মা–মেয়েকে হত্যার ঘটনায় গৃহকর্মী আয়েশা ও তার স্বামী রাব্বীকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)।
বৃহস্পতিবার দুপুরে ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন্স) এস এন মো. নজরুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
চুরি ধরা পড়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে খুন
ডিএমপি জানায়—
গৃহকর্মী আয়েশা গৃহকর্তীর বাসা থেকে ২ হাজার টাকা চুরি করে। বিষয়টি টের পেয়ে গৃহকর্তী লায়লা ফিরোজ (৪৮) তার সঙ্গে বাগবিতণ্ডায় জড়ান। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে পরদিন আয়েশা পরিকল্পিতভাবে বাসায় ছুরি নিয়ে এসে লায়লাকে হত্যা করে।
মেয়েকে হত্যা করে গোপন করার চেষ্টা
হত্যার সময় লায়লার মেয়ে নাফিসা লাওয়াল বিনতে আজিজ (১৫) ঘুমিয়ে ছিল।
মায়ের সঙ্গে ধস্তাধস্তির শব্দে নাফিসার ঘুম ভেঙে গেলে সে দ্রুত ইন্টারকমে দারোয়ানকে বিষয়টি জানানোর চেষ্টা করে।
এ সময় আয়েশা নাফিসাকেও ছুরি দিয়ে হত্যা করে।
স্বামী রাব্বীর ভূমিকা: পালাতে সাহায্য
হত্যাকাণ্ডের পর আয়েশাকে ঢাকা ছাড়তে সাহায্য করেন তার স্বামী রাব্বী।
পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হওয়ার পর তিনি বিষয়টি স্বীকারও করেছেন বলে জানিয়েছে ডিএমপি।
মামলা ও তদন্ত
গত সোমবার (৮ ডিসেম্বর) মোহাম্মদপুরের বাসা থেকে মা–মেয়ের দুটি মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
সেদিন রাতেই নিহত লায়লা ফিরোজের স্বামী, স্কুলশিক্ষক আ জ ম আজিজুল ইসলাম গৃহকর্মী আয়েশাকে একমাত্র আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন।
পুলিশ জানায়, আয়েশার স্বামীকে সঙ্গী করেই এ হত্যাকাণ্ডের পর পালানোর পরিকল্পনা করা হয়েছিল।
ডিএমপির বক্তব্য
অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার নজরুল ইসলাম বলেন,
“মাত্র ২ হাজার টাকা চুরির ঘটনাকেই কেন্দ্র করে পরিকল্পিতভাবে এই জোড়া হত্যা সংঘটিত হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে সরাসরি জড়িত আয়েশা এবং পালিয়ে যেতে সাহায্যকারী রাব্বী দুজনকেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে।”



