দেশে পেঁয়াজের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি। মাঠ থেকে বাজারে আসতে শুরু করেছে নতুন পেঁয়াজ। পাশাপাশি এখনো মজুত রয়েছে এক লাখ টনেরও বেশি পুরোনো পেঁয়াজ।
তারপরও বাজারে চলছে অস্থিরতা, কারণ সৃষ্টি হয়েছে কৃত্রিম সংকট।
অসাধু ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেট পেঁয়াজ আটকে রেখে সরবরাহ কমিয়ে দাম বাড়াচ্ছে, যাতে সরকারকে আমদানির অনুমতি দিতে বাধ্য করা যায়। তবে বিশেষজ্ঞদের ভাষায়—
তাদের লক্ষ্য আমদানি নয়, ভোক্তার পকেট থেকে বাড়তি মুনাফা লুটে নেওয়া।
এক লাফে ৫০ টাকা বৃদ্ধি
মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে কেজিপ্রতি পেঁয়াজের দাম বেড়েছে ৩০–৫০ টাকা।
শুক্রবার রাজধানীর খুচরা বাজারে:
- কাওরান বাজার: ১৫০ টাকা/কেজি
- রামপুরা বাজার: ১৬০ টাকা/কেজি
- জিনজিরা: ১৪০–১৬০ টাকা/কেজি
অক্টোবরের শেষ দিকে দাম ছিল ৭০ টাকা, আর সেপ্টেম্বরে ৬০–৬৫ টাকা। এ দামে পেঁয়াজ কিনতে এসে হতভম্ব ক্রেতারা ক্ষোভ ঝাড়ছেন।
নয়াবাজারে পণ্য কিনতে আসা ইমদাদুল হক বলেন,
“বাজারে পেঁয়াজ আছে, তবুও এমন দাম! কেউ যেন দেখার নেই।”
পাইকারিতে দাম দ্বিগুণ
শ্যামবাজারে পুরোনো পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে:
- ৬০০ টাকা/পাল্লা (৫ কেজি) → ১২০ টাকা/কেজি
চার দিন আগেও ছিল ৭০–৮০ টাকা।
সরকারকে আমদানির ফাঁদে ফেলতে ছক?
আড়তদাররা দাবি করছেন পেঁয়াজে সংকট আছে।
তবে কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন, বাস্তবে কোনো ঘাটতি নেই।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক ড. জামাল উদ্দীন বলেন—
“আমদানির অনুমতি আদায় করতেই সিন্ডিকেট কৃত্রিম সংকট তৈরি করছে।”
ভোক্তা অধিকার সংস্থা বলছে—এটা কারসাজি
ক্যাব ভাইস প্রেসিডেন্ট এসএম নাজের হোসাইন বলেন—
“আড়তদার ও দাদনদারদের মজুত খেলাই বাজার অস্থির করছে। নজরদারি না বাড়ালে ভোক্তার পকেট কাটা থামবে না।”
ট্যারিফ কমিশনের রিপোর্টে কারসাজির প্রমাণ
বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশন (বিটিটিসি) জানিয়েছে:
- কেজিপ্রতি পেঁয়াজের ন্যায্য দাম ৯০ টাকা
- বাজারে বিক্রি হচ্ছে ১১৫ টাকার ওপরে
- পার্শ্ববর্তী দেশে একই পেঁয়াজের দাম ৩০ টাকার মধ্যে
তবুও পরিস্থিতি সামাল দিতে বিটিটিসি সীমিত পরিমাণ আমদানির পরামর্শ দিয়েছে।



