পৈতৃক সম্পত্তি নিয়ে দীর্ঘ ৪০ বছরের অভিযোগ। জনপ্রিয় অভিনেতা ও নির্মাতা মনোয়ার হোসেন ডিপজলসহ তিন ভাইয়ের বিরুদ্ধে সম্পত্তি বঞ্চনা, ভয়ভীতি ও নিরাপত্তাহীনতার অভিযোগ করেছেন পরিবারের চার বোন। গত বৃহস্পতিবার রাজধানীতে সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ তুলে ধরেন তারা।
কিন্তু অভিযোগের তিন দিন পরই নিজের অবস্থান জানিয়ে সোমবার (৮ ডিসেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দীর্ঘ স্ট্যাটাস দেন ডিপজল। বোনদের অভিযোগকে তিনি ‘মিথ্যা অপবাদ’ বলে উল্লেখ করেন এবং বলেন,
“আল্লাহই সবকিছুর উত্তম বিচারক।”
ডিপজলের প্রতিক্রিয়া: ‘অভিযোগ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’
স্ট্যাটাসে ডিপজল দাবি করেন, কয়েকজন বোন তাঁর বিরুদ্ধে ইচ্ছাকৃতভাবে ভুল তথ্য ছড়াচ্ছেন। তাঁর বক্তব্য, কারও সম্মানহানি নয়, বরং সত্য তুলে ধরতেই তিনি মুখ খুলেছেন। মামলার আইনি জবাব আদালতেই দেবেন বলেও জানান।
তিনি বলেন,
“আমি সবসময় বোনদের সম্মান করেছি, সাহায্য করেছি। এটা এলাকার মানুষও জানে।”
ডিপজল উদাহরণ দিয়ে বলেন—
- এক বোনের অসুস্থ সন্তানের চিকিৎসায় তিনি বড় অঙ্কের টাকা সহায়তা করেছেন, এমনকি ভারতে চিকিৎসার ব্যবস্থাও করেছেন।
- আরেক বোন দাবি করেছেন ১১ বছর যোগাযোগ নেই—ডিপজলের বক্তব্য, তিনি মাত্র দুই মাস আগেই সেই বোনকে আর্থিক সহায়তা দিয়েছেন।
‘৩৫ বছর পর হঠাৎ অভিযোগ, কার প্ররোচনায়?’
ডিপজল প্রশ্ন তুলেছেন, এত বছর পর হঠাৎ অভিযোগ ওঠার পেছনে কার প্ররোচনা আছে? তিনি মনে করেন, যদি প্রকৃত দাবি থাকত, তাহলে পারিবারিক সম্পর্ক বজায় রেখে জানানো যেত।
“প্রাপ্যের চেয়েও বেশি দিতে প্রস্তুত ছিলাম, থাকবও।”
এক বোনের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নাট্যাঙ্গনে যুক্ত সেই বোনের জন্য তিনি প্রায় সব অনুষ্ঠানে আলাদা রুমের ব্যবস্থা করতেন। তাই এ ধরনের অভিযোগ তাঁর জন্য “হৃদয়বিদারক”।
‘আদালতই সত্য প্রমাণ করবে’
চলমান মামলার বিষয়ে সবাইকে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়ে ডিপজল বলেন,
“আইন অনুযায়ী বোনদের যা প্রাপ্য, অবশ্যই পাবেন। জীবনের শেষ প্রান্তে এসে এমন অভিযোগ সত্যিই কষ্টের।”
তিন ভাইয়ের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি আরও বলেন—
“সম্মান দেওয়া ও সম্মান রক্ষার মালিক একমাত্র আল্লাহ।”



