ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজায় যুদ্ধবিরতির মধ্যেও অব্যাহত রয়েছে ইসরাইলি বাহিনীর ড্রোন, বিমান ও গোলাবর্ষণ। হামলার তীব্রতায় প্রতিদিনই বাড়ছে হতাহতের সংখ্যা। দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা ইসরাইলি আগ্রাসনে ইতোমধ্যে উপত্যকাটিতে নিহতের সংখ্যা ৭০ হাজার ছাড়িয়েছে বলে জানিয়েছে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা শনিবার এসব তথ্য প্রকাশ করেছে।
🔶 ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে আজ—নিহত ৭০,১০০, আহত ১,৭০,৯০০
স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানায়, গত দুই বছরে গাজায় নিহত হয়েছেন কমপক্ষে ৭০,১০০ জন এবং আহত হয়েছেন ১ লাখ ৭০ হাজার ৯০০ জনের বেশি।
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় গত মাসে হওয়া যুদ্ধবিরতির পরও প্রায় প্রতিদিন হামলা চালাচ্ছে ইসরাইল, যা নতুন এক মানবিক বিপর্যয়ের সৃষ্টি করেছে।
🔶 শিশুদের ওপর ড্রোন হামলা: দুই ভাই নিহত
শনিবার ভোরে খান ইউনিসের বানী সুফাইলা এলাকায় ড্রোন হামলায় নিহত হয়েছে দুই শিশু—
- জুমা আবু আসি
- ফাদি তামের আবু আসি
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আল-ফারাবি স্কুলের কাছে সাধারণ মানুষের ওপর ড্রোন থেকে বোমা নিক্ষেপ করা হয়। আহতদের নাসের মেডিকেল কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে দুই শিশুকে মৃত ঘোষণা করা হয়।
🔶 স্থল–নৌ–বিমান তিন দিক থেকেই হামলা
শনিবার গাজার বিভিন্ন এলাকায় ইসরাইলি বাহিনী তিন দিক থেকে একযোগে হামলা চালায়।
চিকিৎসা সূত্র জানায়—
- আল-কারারা এলাকায় গোলাবর্ষণে অন্তত তিনজন ফিলিস্তিনি আহত
- তুফফাহ (গাজা সিটি) তে বিমান হামলা
- রাফাহর পূর্বাঞ্চলে নতুন হামলা
- আগের দিন বানী সুফাইলায় ড্রোন হামলায় নিহত হয় আরও একজন ফিলিস্তিনি
🔶 যুদ্ধবিরতি? ইসরাইল লঙ্ঘন করেছে ৫৩৫ বার
গাজার সরকারি গণমাধ্যম কার্যালয়ের মহাপরিচালক ইসমাইল আল-থাওয়াবতা জানান,
যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে ইসরাইল অন্তত ৫৩৫ বার তা লঙ্ঘন করেছে।
গাজার মানবিক পরিস্থিতি ক্রমেই ভয়াবহ হয়ে উঠছে। আন্তর্জাতিক মহলের উদ্বেগ বাড়লেও হামলা থামছে না; বরং প্রতিদিন বাড়ছে লাশের সংখ্যা।



