মিয়ানমারের পশ্চিম রাখাইন অঙ্গরাজ্যে একটি প্রধান হাসপাতালে সামরিক জান্তার বিমান হামলায় অন্তত ৩০ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও কমপক্ষে ৭০ জন। বৃহস্পতিবার বিদ্রোহী গোষ্ঠীর ত্রাণকর্মী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্স এ তথ্য জানিয়েছে।
দেশটিতে নির্বাচন শুরুর আগেই জান্তার হামলা আরও তীব্র হয়েছে। আসছে ২৮ ডিসেম্বর থেকে ভোটগ্রহণ শুরু হওয়ার কথা থাকলেও বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলো নিজেদের নিয়ন্ত্রিত এলাকায় নির্বাচন ঠেকানোর ঘোষণা দিয়েছে।
হাসপাতালেই বোমা বর্ষণ, ধসে পড়ে পুরো উইং
বুধবার সন্ধ্যায় রাখাইনের ম্রাউক-উ শহরের সাধারণ হাসপাতালটিতে সামরিক বিমানের মাধ্যমে সরাসরি বোমা নিক্ষেপ করা হয়।
সহায়তাকর্মী ওয়াই হুন অং জানান, “ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি ভয়াবহ। ইতিমধ্যে ৩১ জন নিহতের খবর নিশ্চিত হয়েছে। সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।”
হামলার পর হাসপাতালের একটি পুরো উইং ধসে পড়ে এবং অগ্নিদগ্ধ হয়।
রাতভর হাসপাতালের বাইরে অন্তত ২০টি লাশ কাপড়ে মোড়ানো অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়।
সকালে ধ্বংসযজ্ঞ আরও স্পষ্ট হয়—ওয়ার্ডের ভাঙা বিছানা, দগ্ধ ভবনের ধ্বংসাবশেষ, বিস্ফোরণের কারণে মাটিতে বড় গর্তসহ চারপাশ এলোমেলো হয়ে যায়।
একটি পরিবার পুরোপুরি বিধ্বস্ত
স্থানীয় কারিগর মাউং বু চায় জানান, হাসপাতালেই প্রাণ হারিয়েছেন তার স্ত্রী, পুত্রবধূ ও পুত্রবধূর বাবা।
“আমি কীভাবে বাঁচব জানি না”—কাঁদতে কাঁদতে বলেন তিনি।
এএ–জান্তা সংঘর্ষ বাড়তেই ভয়াবহতা
রাখাইনের অধিকাংশ এলাকা এখন বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মি (এএ) নিয়ন্ত্রণ করছে।
বহু বছর ধরে বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলন চালানো এএ–র কাছ থেকে এলাকা পুনরুদ্ধারের চেষ্টায় জান্তা বাহিনী বিমান হামলা বাড়িয়েছে।
২০২১ সালের অভ্যুত্থানের পর থেকে সারা দেশে সংঘাত গুরুতর রূপ নিয়েছে। আন্তর্জাতিক মনিটরিং গ্রুপগুলো বলছে—গত দুই বছরে জান্তার বিমান হামলা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, যার বড় অংশই বেসামরিক এলাকায়।



