অস্ট্রেলিয়ার সিডনির বন্ডাই সমুদ্র সৈকতে একটি ইহুদি ধর্মীয় অনুষ্ঠানের সময় বন্দুকধারীদের গুলিতে অন্তত ১০ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন প্রায় এক ডজন মানুষ। রোববার সন্ধ্যায় ঘটে যাওয়া এই ঘটনায় অস্ট্রেলিয়া জুড়ে তীব্র শোক ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশ জানিয়েছে, গুলিবর্ষণের ঘটনায় দু’জনকে আটক করা হয়েছে। অস্ট্রেলিয়ান ব্রডকাস্টিং করপোরেশন (এবিসি) জানিয়েছে, অন্তত দুই বন্দুকধারীর একজন ঘটনাস্থলেই নিহত হয়েছেন।
নিউ সাউথ ওয়েলস অ্যাম্বুল্যান্স সার্ভিসের এক মুখপাত্র বলেন, ‘গুলিবিদ্ধ অবস্থায় প্রায় এক ডজন মানুষকে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। জরুরি চিকিৎসা কার্যক্রম চলছে।’
অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্তনি অ্যালবানিজ ঘটনাটিকে ‘স্তম্ভিত ও মর্মান্তিক’ বলে অভিহিত করে বলেন, ‘জরুরি সেবাদানকারী সংস্থাগুলো ঘটনাস্থলে দ্রুত পৌঁছেছে এবং প্রাণ বাঁচাতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে।’
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয় বাসিন্দা হ্যারি উইলসন বলেন, ‘আমি অন্তত ১০ জনকে মাটিতে পড়ে থাকতে দেখেছি, চারদিকে রক্ত ছড়িয়ে ছিল। পরিস্থিতি ছিল ভয়াবহ।’
ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হার্জগ জানান, হনুকা উৎসবের প্রথম প্রদীপ জ্বালাতে সমুদ্রে জড়ো হওয়া ইহুদি সম্প্রদায়ের ওপর ‘ঘৃণ্য সন্ত্রাসী হামলা’ চালানো হয়েছে। ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিদেওন সারও এ ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, ‘গত দুই বছরে অস্ট্রেলিয়ায় যেভাবে ইহুদিবিরোধী সহিংসতা ও উসকানিমূলক স্লোগান ছড়িয়েছে, আজকের এই হামলা তারই ভয়াবহ পরিণতি।’
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজায় যুদ্ধ শুরুর পর থেকে অস্ট্রেলিয়ায় উপাসনালয়, ভবন ও যানবাহনে একাধিক ইহুদিবিরোধী হামলার ঘটনা ঘটেছে।
বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র বন্ডাই সমুদ্র সৈকত সাধারণত সপ্তাহান্তে স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকে ভরে থাকে। হামলার সময়ও সেখানে বিপুল সংখ্যক মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে গুলির শব্দ, পুলিশ সাইরেন এবং আতঙ্কে দিগ্বিদিক ছুটে পালানো মানুষের দৃশ্য দেখা গেছে। কিছু ভিডিওতে বন্দুকধারীকে প্রতিরোধের চেষ্টাও ধরা পড়েছে।
ঘটনার পূর্ণ তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। হামলার পেছনে কী উদ্দেশ্য ছিল এবং আরও কেউ জড়িত কি না—তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।



