ঢাকায় ঈদুল ফিতর উপলক্ষে খাদ্যসামগ্রী বিতরণকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছিল, সে বিষয়ে ব্যাখ্যা দিয়েছে ঢাকার চীনা দূতাবাস। দূতাবাস জানিয়েছে, এটি চীনের একক উদ্যোগে আয়োজিত একটি দাতব্য কর্মসূচি ছিল, কোনো যৌথ আয়োজন নয়।
মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) রাত ১১টা ৫ মিনিটে দূতাবাসের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়, ঢাকায় নিযুক্ত চীনা রাষ্ট্রদূত Yao Wen একটি দাতব্য অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছিলেন। তবে এ বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত কিছু কনটেন্ট বাস্তবতার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয় বলে দূতাবাস উদ্বেগ প্রকাশ করে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, বাংলাদেশে চীনের বন্ধুত্বপূর্ণ নীতির প্রতি তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। একই সঙ্গে নির্বাচিত সরকারের সুশাসনের প্রতি চীন সমর্থন জানায় এবং দুই দেশের জনগণের কল্যাণে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে।
এর আগে মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর মিরপুর–১০ নম্বর আদর্শ উচ্চবিদ্যালয়ের মাঠে ঢাকার বাসিন্দাদের মধ্যে ঈদুল ফিতরের উপহার হিসেবে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করে চীনা দূতাবাস। অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন Shafiqur Rahman।

বিকেল ৪টা ৩০ মিনিটে চীনা দূতাবাস তাদের ফেসবুক পেজে একটি পোস্টে জানায়, ঈদ উপলক্ষে ঢাকার বাসিন্দাদের মধ্যে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করেছে দূতাবাস। সেখানে রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বলেন, ঈদুল ফিতর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ ও আনন্দ ভাগাভাগির সময়। এই সহায়তার মাধ্যমে চীন স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছে উষ্ণতা পৌঁছে দিতে এবং শান্তিপূর্ণভাবে উৎসব উদ্যাপনে সহায়তা করতে চায়।
অন্যদিকে শফিকুর রহমান এই সহায়তার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, এই খাদ্যসামগ্রী বাংলাদেশের জনগণের প্রতি চীনের আন্তরিক বন্ধুত্বের প্রতিফলন।
তবে অনুষ্ঠানের পর Bangladesh Jamaat-e-Islami-এর ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশিত একটি পোস্টে চীন ও জামায়াতের যৌথ উদ্যোগে দুস্থদের মধ্যে ফুডপ্যাক বিতরণের কথা উল্লেখ করা হয়। এতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনা ও বিভ্রান্তি তৈরি হয়।
পরবর্তীতে চীনা দূতাবাস তাদের ব্যাখ্যা প্রকাশ করলে জামায়াতের ফেসবুক পেজে দেওয়া আগের পোস্টটি সংশোধন করা হয়। সংশোধিত পোস্টে উল্লেখ করা হয়, চীনা দূতাবাসের পক্ষ থেকে ঢাকা–১৫ আসনের জনগণের জন্য ফুডপ্যাক উপহার দেওয়া হয়েছে।



