26.8 C
Dhaka
Wednesday, June 10, 2026

“নির্বাচনের আগে সবাই সংঘাতের জন্য মুখিয়ে আছে”—তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলমের আশঙ্কা

আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক দলগুলো সংঘাতের জন্য মুখিয়ে আছে বলে মন্তব্য করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলম। তবে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের অবস্থান ও নেতৃত্বের কারণে এখনো বড় ধরনের সংঘাত শুরু হয়নি বলেও মনে করেন তিনি।

শনিবার (২৫ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় বিএমএ ভবনে ‘মাজার সংস্কৃতি: সহিংসতা, সংকট ও ভবিষ্যৎ ভাবনা’ শীর্ষক জাতীয় সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ আশঙ্কা প্রকাশ করেন মাহফুজ আলম। সংলাপের আয়োজন করে সুফি সম্প্রদায় নিয়ে গবেষণাধর্মী সংগঠন ‘মাকাম’।

তথ্য উপদেষ্টা বলেন, “সবাই সংঘাতের জন্য মুখিয়ে আছে, এবং অল্প কয়েক মাসের মধ্যেই আমরা তা দেখতে পাবো বলে আশঙ্কা করছি। যদি এর সঙ্গে ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ যুক্ত হয়, তাহলে বাংলাদেশের পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে।”

মাহফুজ আলম বলেন, আওয়ামী লীগ নাকি ‘দরবার’ ও মাজারকেন্দ্রিক গোষ্ঠীর সঙ্গে সংযোগ তৈরির চেষ্টা করছে—এমন খবর তিনি শুনেছেন। “তাদের বোঝানো হচ্ছে যে ইউনূসের সরকার এসে মাজার ভেঙে দিচ্ছে, মসজিদ থেকে লোক বের করে দিচ্ছে। অথচ এই প্রশ্নটা অন্তর্বর্তী সরকারের নয়—এটা ৫০ বছরের পুরোনো প্রবণতা। সরকার বদলালেই মসজিদ কমিটি ও ইসলামী ফাউন্ডেশনের কমিটি বদলে যায়,” বলেন তিনি।

রাষ্ট্রীয় ফ্যাসিবাদ চলে গেলেও সমাজে তার রেশ রয়ে গেছে উল্লেখ করে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, “দেশে ইসলামের নানা ধারা আছে। তাদের মধ্যে সংলাপ ও সংযোগ না হলে রাষ্ট্র আরও ঝুঁকির মুখে পড়বে। রাজনৈতিক দলগুলো বরং এই বিভাজনকে ব্যবহার করেছে—কেউ কওমিদের সঙ্গে, কেউ সুন্নিদের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, গত ১৫ বছরে সুফি ধারার সঙ্গে আওয়ামী লীগের একটি আদর্শিক সংযোগ তৈরি হয়েছিল। সুফিরা মনে করেছিল আওয়ামী লীগ তাদের রক্ষা করবে, আর তারা আওয়ামী লীগকে ভোট দেবে। এই প্রক্রিয়াতেই ধর্মীয় রাজনীতির একটি অংশ বন্দি হয়ে গেছে। কওমিরাও এর বাইরে নয়; তারাও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মাধ্যমে ব্যবহৃত হয়েছে।

মাহফুজ আলম বলেন, “কোনো কোনো মুসলিম দেশের দূতাবাসও চায় মাজারগুলো ধ্বংস হোক। এখানে রাজনৈতিক ও আদর্শিক উদ্দেশ্য কাজ করছে। এই সংকটগুলোকে রাষ্ট্রীয় ও নীতিনির্ধারণী দৃষ্টিকোণ থেকে দেখতে হবে, ভয় পেয়ে নয়।”

তিনি আরও জানান, সাম্প্রতিক মাজার হামলার ঘটনায় অনেককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং শিগগিরই ক্ষতিগ্রস্ত মাজারগুলোর সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি হামলার শিকার মাজার কর্তৃপক্ষকে মামলা করার আহ্বান জানান তিনি।

তথ্য উপদেষ্টা বলেন, “যদি এই সংস্কৃতি টিকে যায়, তাহলে একদিন এক দলের ইসলাম অন্য দলের মসজিদ ভেঙে ফেলবে। আজ সুফিদের ওপর হামলা, কাল কওমিদের ওপর হবে—এভাবে চলতে থাকলে দেশ আরও অস্থির হবে।”

বক্তব্যের শেষে একজন সাংবাদিক তথ্য উপদেষ্টাকে তাঁর পদত্যাগের সময়সূচি জানতে চান। তবে বিষয়টি আলোচ্যসূচির বাইরে হওয়ায় তিনি এ প্রশ্নের উত্তর দেননি।

Related Articles

Stay Connected

5,000FansLike
4,000FollowersFollow
0SubscribersSubscribe
- Advertisement -spot_img

Latest Articles