বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে বড় পরিবর্তন এনে সংবিধানে আবারও নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা ফিরিয়ে দিয়েছেন আপিল বিভাগ। বৃহস্পতিবার (২০ নভেম্বর) প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বাধীন সাত বিচারপতির পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ এ যুগান্তকারী রায় ঘোষণা করেন।
এই রায়ের মাধ্যমে ১৪ বছর আগে বাতিল হওয়া তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা আবারও কার্যকর হলো, যা আগামী চতুর্দশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন থেকে বাস্তবায়িত হবে।
🔶 রায় ঘোষণা—একটি ঐতিহাসিক সকাল
গত ১১ নভেম্বর শুনানি শেষে আজ রায়ের দিন ঠিক করেছিলেন প্রধান বিচারপতি। সকাল থেকেই সুপ্রিম কোর্ট এলাকায় ছিল আইনজীবী, সাংবাদিক ও রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের উপস্থিতি। আদালতের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ রায় ঘোষণা করলে আদালতকক্ষে উত্তেজনা ও আলোচনার ঝড় ওঠে।
🔶 ১০ দিনের টানা শুনানি
এ আলোচিত আপিলে শুনানি করেন—
- বিএনপির পক্ষে: জয়নুল আবেদীন ও ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল
- জামায়াতের পক্ষে: আইনজীবী শিশির মনির
- পাঁচ বিশিষ্ট নাগরিকের পক্ষে: সিনিয়র আইনজীবী শরীফ ভূইয়া
- রাষ্ট্রপক্ষে: অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান
রাষ্ট্রপক্ষ ও আপিলকারীরা শুনানিতে বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিলের পর দেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা বেড়েছে, গণতন্ত্রের সংকট তৈরি হয়েছে এবং নির্বাচন ঘিরে ব্যাপক অবিশ্বাস তৈরি হয়েছে। তাই এ ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনাই এখন জনস্বার্থের দাবি।
🔶 “মানুষ নিজের ভোট নিজে দিতে পারবে”—বিএনপির প্রতিক্রিয়া
রায়ের পর বিএনপির সিনিয়র আইনজীবী জয়নুল আবেদীন বলেন,
“এই রায়ের মাধ্যমে দেশের মানুষ আবারও নিজের ভোট নিজে দিতে পারবে। গণতন্ত্র রক্ষা পাবে। আজ আমরা সংঘাতের রাজনীতি থেকে মুক্তি পেলাম।”
🔶 রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন অধ্যায়
রায়ে বলা হয়েছে, চতুর্থ জাতীয় নির্বাচন থেকে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার নির্বাচন পরিচালনা করবে। ফলে আসন্ন রাজনৈতিক সমীকরণে বড় পরিবর্তন আসবে এবং রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সমঝোতা আরও বাড়বে বলে ধারণা বিশ্লেষকদের।



