আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে জাতীয় দলের সব খেলোয়াড়কে কোনো ধরনের রাজনৈতিক বা নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ না নিতে কঠোর নির্দেশনা দিয়েছে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি)। সোমবার (২৪ নভেম্বর) এনএসসির পরিচালক (ক্রীড়া) আমিনুল এহসানের সই করা চিঠিতে এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। এর আগেও বিভিন্ন সময়ে ক্রিকেট ও অন্যান্য ডিসিপ্লিনের খেলোয়াড়দের বিভিন্ন প্রার্থীর হয়ে প্রচারণায় অংশ নিতে দেখা গেছে। এবারে সেই ঘটনা যাতে পুনরাবৃত্তি না হয়—সেজন্যই আগেভাগে সতর্ক করলো জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ।
‘জাতীয় দলের খেলোয়াড়রা দেশের সম্পদ’ — চিঠিতে উল্লেখ
চিঠিতে বলা হয়েছে—
জাতীয় দলের খেলোয়াড়রা দেশের সম্পদ এবং সব নাগরিকের কাছে একাত্মতার প্রতীক।
তাদের রাজনৈতিক বা নির্বাচনী কর্মকাণ্ডে যুক্ত করা হলে ক্রীড়াঙ্গনের নিরপেক্ষতা ক্ষুণ্ণ হতে পারে এবং পরিবেশ কলুষিত হওয়ার ঝুঁকি থাকে।
এনএসসি উদ্বেগ প্রকাশ করে জানায়, কিছু ব্যক্তি বা মহল ইতোমধ্যে জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের প্রচারণায় ব্যবহার করার উদ্যোগ নিয়েছে—যা জাতীয় ক্রীড়ানীতির পরিপন্থী।
দুটি কঠোর নির্দেশনা
জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ ফেডারেশনগুলোকে দুটি স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছে—
১️⃣ খেলোয়াড়দের কোনো দল বা প্রার্থীর নির্বাচনী প্রচারণায় ব্যবহার করা যাবে না।
২️⃣ খেলোয়াড়রা কোনো নির্বাচনী সভা, মঞ্চ বা প্রচারণামূলক কার্যক্রমে উপস্থিত থাকতে পারবেন না।
ফেডারেশনগুলোর পাশাপাশি খেলোয়াড়দেরও এই নির্দেশনা কঠোরভাবে মেনে চলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আগে প্রচারণায় অংশ নেওয়ার নজির
গত নির্বাচনে বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপনের প্রচারণায় জাতীয় দলের একাধিক ক্রিকেটারকে দেখা গিয়েছিল।
এবারও ফেনির জন্য শুভেচ্ছা বার্তা দিতে দেখা গেছে হামজা-শমিতসহ কয়েকজন খেলোয়াড়কে—যা এনএসসির নজরে আসে।
এজন্যই এবার ক্রীড়া পরিষদ শুরুতেই কঠোর অবস্থান নিল।
ক্রীড়াঙ্গনের পবিত্রতা রক্ষা জরুরি
এনএসসি মনে করে—
খেলোয়াড়দের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশ নেওয়া ক্রীড়ার সুস্থ পরিবেশকে বিঘ্নিত করতে পারে, যা কোনোভাবেই কাম্য নয়।



