১৭ বছর পর দেশে ফেরার দুদিনের মধ্যেই ভোটার তালিকায় নিজের নাম অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ নিচ্ছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার লক্ষ্যে আগামী ২৭ ডিসেম্বর তিনি ভোটার নিবন্ধন–সংক্রান্ত সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবেন।
সোমবার বিকেলে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দীনের সঙ্গে বৈঠক শেষে এ তথ্য জানান বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ।
তিনি বলেন, আগামী ২৫ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার লন্ডন থেকে দেশে ফিরবেন তারেক রহমান। দেশে ফেরার পর শনিবার তিনি ভোটার হিসেবে নিবন্ধিত হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় সব কার্যক্রম সম্পন্ন করবেন।
বৈঠকে বিএনপির প্রতিনিধি দল জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থীদের মনোনয়নপত্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কিছু বিধি ও সংশোধনী বিষয়েও সিইসির সঙ্গে আলোচনা করে।
উল্লেখ্য, এক-এগারো পরবর্তী তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় ২০০৮ সালে দেশে ছবিসহ ভোটার তালিকা প্রণয়ন করা হলেও বিদেশে অবস্থান করায় তারেক রহমান তখন ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হননি। ওই বছরের ১১ সেপ্টেম্বর কারামুক্ত হয়ে চিকিৎসার উদ্দেশ্যে তিনি লন্ডনে যান এবং দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দেশে ফেরার সুযোগ পাননি।
গত বছরের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর গঠিত অন্তর্বর্তী সরকার আগামী ফেব্রুয়ারিতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিকে এগোচ্ছে। নির্বাচন কমিশন ইতিমধ্যে ভোটার তালিকা চূড়ান্ত করলেও আইন অনুযায়ী যোগ্য কোনো ব্যক্তির নাম যেকোনো সময় তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার ক্ষমতা রয়েছে কমিশনের।
বিএনপির পক্ষ থেকে এখনো জানানো হয়নি, তারেক রহমান কোন এলাকায় ভোটার হিসেবে নিবন্ধিত হতে চান। তবে দলীয় সূত্র জানিয়েছে, দেশে ফিরে তিনি গুলশানে মা খালেদা জিয়ার বাসার কাছাকাছি একটি বাড়িতে অবস্থান করবেন।
আগামী জাতীয় নির্বাচনে তিনি তার পৈতৃক এলাকা বগুড়ার সদর (বগুড়া–৬) আসন থেকে ধানের শীষ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। এরই মধ্যে তাঁর পক্ষে স্থানীয় নেতারা মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন।
এদিকে লন্ডনে অবস্থানকালে তারেক রহমানের পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় আওয়ামী লীগ সরকারের সময় তা নবায়নের সুযোগ পাননি। ফলে তিনি সরকারের দেওয়া ট্রাভেল পাস ব্যবহার করে দেশে ফিরছেন।



