বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণ, চট্টগ্রাম বন্দরসহ দেশের যেকোনো দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত সিদ্ধান্ত কেবলমাত্র নির্বাচিত সরকারেরই নেওয়ার অধিকার রয়েছে।
নির্বাচনী ম্যান্ডেটহীন অন্তর্বর্তী সরকার এসব সিদ্ধান্ত নিয়ে দেশের ভবিষ্যৎকে ঝুঁকিতে ফেলছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সোমবার নিজের ফেসবুক পেজে দীর্ঘ এক পোস্টে তিনি এই অবস্থান ব্যাখ্যা করেন।
“যারা নির্বাচিত নয়, তারা দেশের ভবিষ্যৎকে বাঁধতে পারে না”
তারেক রহমান বলেন, এলডিসি উত্তরণ বা বন্দর পরিচালনার মতো সিদ্ধান্ত আগামী দশকজুড়ে অর্থনীতি ও জনগণের জীবনে প্রভাব ফেলবে।
সুতরাং যাদের হাতে জনগণের ভোট নেই, তাদের এসব বিষয়ের ওপর কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা থাকা উচিত নয়।
তিনি উদাহরণ টেনে বলেন—
একজন গাজীপুরের পোশাক শিল্প উদ্যোক্তা বা নারায়ণগঞ্জের শ্রমজীবী মানুষের জীবনে শুল্ক সুবিধা তুলে নেওয়া বা রপ্তানি সংকট কত বড় ধাক্কা সৃষ্টি করতে পারে, তা সরকার কখনোই বিবেচনায় নেয়নি।
এলডিসি উত্তরণে সময় বাড়ানো কেন অসম্ভব— সে প্রশ্ন তুললেন
তারেক রহমান বলেন, সরকার বলছে সময় বাড়ানোর সুযোগ নেই।
কিন্তু ইতিহাস বলছে—
অ্যাঙ্গোলা ও সামোয়ার মতো দেশ সময়সূচি পরিবর্তনের সুযোগ পেয়েছে।
জাতিসংঘের নীতিতেও অর্থনৈতিক ধাক্কায় সময় বাড়ানোর বিধান রয়েছে।
তিনি বলেন,
“যোগ্য হওয়া আর প্রস্তুত হওয়া এক নয়। দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে সময় চাওয়া দুর্বলতা নয়—দায়িত্বশীলতা।”
চট্টগ্রাম বন্দর নিয়ে প্রশ্ন
তারেক রহমান চট্টগ্রাম বন্দরকে দেশের কৌশলগত সম্পদ বলে উল্লেখ করেন।
তিনি অভিযোগ করেন,
একটি অন্তর্বর্তী সরকার দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বন্দর নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি সিদ্ধান্ত নিচ্ছে, যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে গভীরভাবে প্রভাবিত করবে।
তার ভাষায়—
“কৌশলগত বিকল্পগুলো বন্ধ করে আলোচনা দুর্বল করা হচ্ছে। জনআলোচনাকে গুরুত্বহীন বলা হচ্ছে। এটি কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে বলা নয়, বরং রাষ্ট্রীয় নীতিকে রক্ষা করার দাবি।”
“দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের অধিকার জনগণের”
তিনি বলেন, বাংলাদেশের মানুষ কখনোই নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে নিষ্ক্রিয় নয়।
তারা সম্মান, অংশগ্রহণ এবং নিজের সিদ্ধান্তের মূল্যায়ন চায়।
তাই অনেকে আগ্রহ নিয়ে তাকিয়ে আছে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনের দিকে, যেখানে জনগণ আবার প্রমাণ করবে—
এই দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে এই দেশের জনগণই



