27 C
Dhaka
Wednesday, June 10, 2026

উত্তরে জেঁকে বসেছে শীত: কুয়াশা–ঠাণ্ডায় বিপর্যস্ত জনজীবন, দুর্ভোগে নিম্নআয়ের মানুষ

উত্তরের জনপদে হঠাৎ করেই জেঁকে বসেছে শীত। রংপুর বিভাগসহ আশপাশের জেলাগুলোতে কয়েক দিন ধরে মৃদু থেকে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। ঘন কুয়াশা আর ঠাণ্ডা হাওয়ার দাপটে সকাল গড়ালেও সূর্যের দেখা মিলছে না। ফলে তাপমাত্রা খুব বেশি না কমলেও শীতের অনুভূতি বেড়েছে কয়েক গুণ।

রংপুর, পঞ্চগড়, কুড়িগ্রাম, নীলফামারী, লালমনিরহাট, দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও ও গাইবান্ধায় ভোর থেকেই কুয়াশার চাদরে ঢেকে যাচ্ছে চারপাশ। দৃশ্যমানতা কমে যাওয়ায় মহাসড়ক ও আঞ্চলিক সড়কে যানবাহন চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে দিনের আলো থাকলেও যানবাহনকে হেডলাইট জ্বালিয়ে চলতে হচ্ছে, যা দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।

শীতের তীব্রতায় সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন দিনমজুর, রিকশাচালক, ভ্যানচালকসহ নিম্নআয়ের মানুষ। ঠাণ্ডার কারণে অনেকেই সকালবেলা কাজে বের হতে পারছেন না, ফলে দৈনিক আয় কমে যাচ্ছে। রিকশাচালক বাবুল মিয়া বলেন, ‘শীতের জন্য রাস্তায় যাত্রী কম। আয় কমে যাওয়ায় গরম কাপড় কেনার সামর্থ্য নেই। পুরোনো জামাকাপড় দিয়েই দিন কাটাতে হচ্ছে।’

শীতের প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়েছে শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থদের ওপর। ঠাণ্ডাজনিত নানা রোগে হাসপাতালে রোগীর চাপ বাড়ছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ। শীত থেকে বাঁচতে অনেকেই ফুটপাত ও ভ্রাম্যমাণ দোকান থেকে কম দামের গরম কাপড় কিনছেন। তবে ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, পুরোনো শীতবস্ত্রের সরবরাহ কম থাকায় দাম বেড়েছে, যা নিম্নআয়ের মানুষের জন্য বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে।

মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) সকালে কুড়িগ্রামের রাজারহাটে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১২ দশমিক ০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। একই সময়ে রংপুর, পঞ্চগড়, নীলফামারী, দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও ও গাইবান্ধার বিভিন্ন এলাকায় তাপমাত্রা ১২ থেকে ১৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ওঠানামা করে। বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ প্রায় ৯৯ শতাংশ থাকায় কুয়াশা আরো ঘনীভূত হচ্ছে।

শীতবস্ত্রের অভাবে অনেক অতিদরিদ্র মানুষ খড়, কাঠ কিংবা পরিত্যক্ত কাগজ জ্বালিয়ে ঠাণ্ডা দূর করার চেষ্টা করছেন। এতে স্বাস্থ্যঝুঁকিও বাড়ছে। কাজের সুযোগ কমে যাওয়ায় শ্রমজীবী মানুষের সংসার চালানো দিন দিন কঠিন হয়ে উঠছে।

রংপুর আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, বাতাসে আর্দ্রতা বেশি থাকায় কুয়াশা সহজে কাটছে না। আগামী দুই থেকে তিন দিন শীতের এই প্রকোপ অব্যাহত থাকতে পারে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় সবাইকে সতর্ক থাকার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

Related Articles

Stay Connected

5,000FansLike
4,000FollowersFollow
0SubscribersSubscribe
- Advertisement -spot_img

Latest Articles