বাংলাদেশ ক্রিকেটের ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায় রচনা করলেন মুশফিকুর রহিম। দেশের হয়ে প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে শততম টেস্ট খেলাই ছিল তাঁর বড় মাইলফলক। কিন্তু মিরপুরে সেই বিশেষ ম্যাচকে রাঙিয়ে তুললেন আরও এক বিরল কীর্তিতে—শততম টেস্টে সেঞ্চুরি। টেস্ট ইতিহাসে এর আগেই এমন অর্জন ছিল মাত্র দশজনের।
এক রানের অপেক্ষা নিয়ে দ্বিতীয় দিনের সকালে ব্যাট করতে নামেন মুশফিক। দর্শকদের দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে জর্ডান নেইলের ডেলিভারি লেগ-সাইডে ঠেলে তুলে নেন কাঙ্ক্ষিত রান। দু’হাত উঁচু করে স্বভাবসুলভ উদযাপনে সাড়া দেন গ্যালারির উচ্ছ্বাসে।
এর আগে টেস্টে তাঁর সেঞ্চুরির সংখ্যা ছিল ১২—যার তিনটি আবার রূপ নিয়েছিল ডাবল সেঞ্চুরিতে। তবে ১৯৫ বলে করা এই ১৩তম সেঞ্চুরিই হয়ে রইল সবচেয়ে ঐতিহাসিক, সবচেয়ে অনন্য।
শততম টেস্টে সেঞ্চুরি করার অভিজাত তালিকায় তাঁর আগে ছিলেন ক্রিকেট বিশ্বের কয়েকজন মহাতারকা। ১৯৬৮ সালে ইংল্যান্ডের কলিন কাউন্ড্রে শুরু করেছিলেন এই কীর্তির যাত্রা। এরপর একে একে যুক্ত হন পাকিস্তানের জাভেদ মিয়াঁদাদ, ওয়েস্ট ইন্ডিজের কিংবদন্তি গর্ডন গ্রিনিজ, ইংল্যান্ডের আলেক স্ট্রুয়ার্ট, পাকিস্তানের ইনজামাম-উল-হক।
২০০৬ সালে রিকি পন্টিং ইতিহাস গড়েন দুই ইনিংসেই সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে। দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক নেতা গ্রায়েম স্মিথ, তাঁরই সতীর্থ হাশিম আমলা, ইংল্যান্ডের জো রুট এবং অস্ট্রেলিয়ার ডেভিড ওয়ার্নারও শততম টেস্টে সেঞ্চুরি করে তালিকায় নিজের নাম তুলেছিলেন—শেষ দুজন তো করেছিলেন ডাবল সেঞ্চুরি।
মুশফিকুর রহিম আজ সেই মহাতারকাদের পাশে নিজের নাম লিখলেন। বাংলাদেশ ক্রিকেট ইতিহাসে এটি নিঃসন্দেহে এক যুগান্তকারী অধ্যায়—যা দীর্ঘদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে।



