অ্যাশেজ মানেই মাঠে উত্তাপ, গ্যালারিতে উন্মাদনা। কিন্তু পার্থে সিরিজের প্রথম টেস্ট দু’দিনেই শেষ হয়ে যাওয়ায় সেই উন্মাদনাই এবার বুমেরাং হয়ে দাঁড়ালো ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার (CA) জন্য। ম্যাচ আগে শেষ হওয়ায় তৃতীয় ও চতুর্থ দিনের টিকিট বিক্রি থেকে পাওয়া আয় হাতছাড়া হওয়ায় বোর্ডকে গুনতে হচ্ছে প্রায় ৩০ লাখ অস্ট্রেলিয়ান ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ২৪ কোটি টাকারও বেশি।
ট্রাভিস হেডের ঝড়ো সেঞ্চুরিতে অস্ট্রেলিয়া ৮ উইকেটের বড় জয় পেলেও মাঠে খেলা শেষ হয়ে যায় মাত্র দুই দিনেই। ফলে দুই দিনের টিকিট বিক্রিই শেষ ভরসা হয়ে থাকে CA-এর জন্য। যদিও দর্শকসংখ্যা ছিল রেকর্ড—১ লাখ ১ হাজার ৫১৪ জন। শুক্রবার ৫১,৫৩১ এবং শনিবার ৪৯,৯৮৩ দর্শক গ্যালারি ভরিয়ে দেন।
এই ম্যাচে ভেঙে যায় গত বছরের পার্থ টেস্টের দর্শক রেকর্ডও। সেবার ভারত-অস্ট্রেলিয়া ম্যাচও পাঁচদিন পর্যন্ত গড়ায়নি; চারদিনেই শেষ হয়েছিল।
ম্যাচ শেষ হতেই ক্ষতির হিসাব
ম্যাচ শেষে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার প্রধান নির্বাহী টড গ্রিন স্বীকার করেন, টেস্ট আগেই শেষ হওয়ায় বড় ক্ষতির মুখ পড়তে হয়েছে।
তিনি বলেন,
“অনেক অংশীদারই ক্ষতির মুখে পড়বে—প্রথমত সম্প্রচার সংস্থাগুলো। এরপর আমাদের বোর্ড, টিকিট আয়, স্পনসর—সবখানেই আর্থিক প্রভাব পড়বে। এই সিরিজের আর্থিক মূল্য অনেক বড়।”
টড গ্রিন আগেই মজা করে বলেছিলেন, ম্যাচ তৃতীয় দিন পর্যন্তই টিকে থাকবে কি না তা নিয়েই সন্দেহ ছিল। শেষমেশ তাঁর সেই ধারণাই সত্য হয়েছে।
এর আগেই ছিল ১১.৩ মিলিয়ন ডলারের লোকসান
গত মাসের বার্ষিক সাধারণ সভায় CA জানায়, আগের অর্থবছরে তাদের ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ১১.৩ মিলিয়ন অস্ট্রেলিয়ান ডলার। পারফরম্যান্স নিয়ে বোর্ড তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ে।
তবে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার চেয়ারম্যান মাইক বেয়ার্ড আশাবাদী। তিনি জানান,
“পরের বছরটি হবে ঐতিহাসিক—সর্বোচ্চ দর্শক, সর্বোচ্চ স্পনসরশিপ, সর্বোচ্চ ভিউয়ারশিপের সম্ভাবনা আছে।”
অ্যাশেজ সিরিজে মাঠের লড়াই যেমন উত্তপ্ত, তেমনি আর্থিক লড়াইয়েও বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে অস্ট্রেলিয়া।



