মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে ইরানের প্রভাবশালী রাজনীতিক Ali Larijani ইসরায়েলি হামলায় নিহত হয়েছেন। তার বয়স ছিল ৬৭ বছর। মঙ্গলবার ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম এ তথ্য জানায়।
এর আগে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী Israel Katz দাবি করেন, ইসরায়েলি এক বিমান হামলায় লারিজানি নিহত হন।
লারিজানি ছিলেন ইরানের রাজনৈতিক অঙ্গনের অন্যতম শক্তিশালী ব্যক্তি এবং দেশটির সর্বোচ্চ নেতা Ali Khamenei-এর ঘনিষ্ঠ উপদেষ্টা। নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতির গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণে তার বড় ভূমিকা ছিল।
দীর্ঘ রাজনৈতিক প্রভাব
লারিজানি দীর্ঘ সময় ইরানের ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন।
- তিনি ২০০৮ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
- এর আগে তিনি দেশের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের প্রধান ছিলেন।
- একই সঙ্গে তিনি ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার সংস্থা Islamic Republic of Iran Broadcasting-এর প্রধান হিসেবেও কাজ করেন।
ইরান-ইরাক যুদ্ধে সামরিক ভূমিকা
১৯৮০ সালে শুরু হওয়া Iran-Iraq War চলাকালে লারিজানি Islamic Revolutionary Guard Corps-এ যোগ দেন এবং সামরিক সংগঠন পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। এই যুদ্ধই নতুন প্রজন্মের ইরানি নেতাদের রাজনৈতিক উত্থানের পথ তৈরি করেছিল।
পারমাণবিক আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা
২০০৫ থেকে ২০০৭ সাল পর্যন্ত তিনি ইরানের প্রধান পারমাণবিক আলোচক ছিলেন। পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনায় তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন এবং ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচির পক্ষে দৃঢ় অবস্থান নেন।
সাম্প্রতিক বিক্ষোভ দমনে বিতর্ক
সম্প্রতি ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনে তার ভূমিকা নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা হয়। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর দাবি, সেই দমন অভিযানে হাজারো মানুষ নিহত হয়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র তার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে।
পরিবার ও ব্যক্তিগত জীবন
লারিজানি একটি প্রভাবশালী ধর্মীয় পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার ভাইদের মধ্যেও কয়েকজন উচ্চপদে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি দর্শনে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন এবং রাজনীতির পাশাপাশি দীর্ঘদিন রাষ্ট্রীয় নীতি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।



