কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইন–সংক্রান্ত প্রায় ৩০ লাখ পৃষ্ঠার নথি, ১ লাখ ৮০ হাজার ছবি ও ২ হাজার ভিডিও প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ (ডিওজে)। গত শুক্রবার জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা এসব নথিতে বিশ্বের বহু প্রভাবশালী রাজনীতিক, ধনকুবের ও অভিজাত ব্যক্তির নাম উঠে এসেছে।
গত বছর কংগ্রেসে পাস হওয়া ‘এপস্টেইন ফাইলস ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্ট’ অনুযায়ী এসব নথি প্রকাশ বাধ্যতামূলক করা হয়। আইন অনুযায়ী নির্ধারিত সময়সীমার ছয় সপ্তাহ পর এ বিশাল আকারের নথি প্রকাশ করে বিচার বিভাগ।
ডিওজের ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্ল্যাঞ্চ বলেন, “মার্কিন জনগণের কাছে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং আইন মেনে চলার বাধ্যবাধকতা থেকেই এসব নথি প্রকাশ করা হয়েছে।”
কী আছে এসব নথিতে
প্রকাশিত ফাইলে এপস্টেইনের কারাবাসকালীন তথ্য, মনস্তাত্ত্বিক প্রতিবেদন, তাঁর মৃত্যুর বিবরণ এবং সহযোগী গিলেন ম্যাক্সওয়েলের তদন্তসংক্রান্ত নথি রয়েছে। অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েদের পাচারে সহায়তার দায়ে ম্যাক্সওয়েল বর্তমানে কারাদণ্ড ভোগ করছেন।
নথিগুলোতে এপস্টেইনের সঙ্গে বিভিন্ন প্রভাবশালী ব্যক্তির ই-মেইল আদান–প্রদানের তথ্যও উঠে এসেছে, যদিও অনেক ক্ষেত্রেই কোনো অপরাধের সরাসরি প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
প্রিন্স অ্যান্ড্রু ও ব্রিটিশ অভিজাতদের যোগাযোগ
নথিতে ‘দ্য ডিউক’ নামে একজনের সঙ্গে এপস্টেইনের ই-মেইলের কথা উল্লেখ রয়েছে, যাকে যুক্তরাজ্যের প্রিন্স অ্যান্ড্রু বলে ধারণা করা হচ্ছে। এসব ই-মেইলে বাকিংহাম প্যালেসে নৈশভোজ ও এক রুশ নারীর সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার প্রস্তাবের কথাও রয়েছে। যদিও এসব ই-মেইলে কোনো অপরাধের ইঙ্গিত নেই, তবু এপস্টেইনের সঙ্গে প্রিন্স অ্যান্ড্রুর ঘনিষ্ঠতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
এ ছাড়া প্রিন্স অ্যান্ড্রুর সাবেক স্ত্রী সারাহ ফার্গুসনের সঙ্গেও এপস্টেইনের ই-মেইল যোগাযোগের তথ্য নথিতে উঠে এসেছে।
ট্রাম্পের নাম শত শতবার
প্রকাশিত নথিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নাম শত শতবার এসেছে। ট্রাম্প ও এপস্টেইনের বন্ধুত্বের কথা আগেও জানা ছিল। তবে ট্রাম্প দাবি করেছেন, তাঁদের সম্পর্ক বহু আগেই বিচ্ছিন্ন হয়েছে এবং এপস্টেইনের যৌন অপরাধ সম্পর্কে তিনি কিছু জানতেন না। বিচার বিভাগ জানিয়েছে, ট্রাম্পকে ঘিরে কিছু দাবি ভিত্তিহীন ও অসত্য।
ইলন মাস্ক, বিল গেটস ও অন্যরা
নথিতে ধনকুবের ইলন মাস্ক ও এপস্টেইনের মধ্যে ই-মেইল যোগাযোগের কথাও উঠে এসেছে। যদিও মাস্কের বিরুদ্ধে কোনো অপরাধের অভিযোগ নেই। বিল গেটসকে ঘিরে থাকা কিছু অভিযোগ তাঁর মুখপাত্র ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা ও হাস্যকর’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন।
এ ছাড়া ব্রিটিশ ব্যবসায়ী রিচার্ড ব্র্যানসন, লর্ড ম্যান্ডেলসন এবং ইউরোপের একাধিক প্রভাবশালী ব্যক্তির নামও নথিতে রয়েছে।
ভুক্তভোগীদের পরিচয় ফাঁসের অভিযোগ
ভুক্তভোগীদের পক্ষে লড়াই করা আইনজীবীরা অভিযোগ করেছেন, নতুন নথিতে কিছু ভুক্তভোগীর নাম ও ছবি যথাযথভাবে গোপন রাখা হয়নি। এ নিয়ে সমালোচনার মুখে বিচার বিভাগ জানিয়েছে, তারা প্রয়োজনীয় কাটছাঁট ও সংশোধনের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
সব নথি কি প্রকাশ হয়েছে?
বিচার বিভাগ জানিয়েছে, তারা ৬০ লাখের বেশি সম্ভাব্য প্রাসঙ্গিক নথি শনাক্ত করেছে, যার মধ্যে প্রায় ৩৫ লাখ প্রকাশ করা হয়েছে। তবে বিরোধী ডেমোক্র্যাটরা দাবি করছেন, এখনও প্রায় ২৫ লাখ নথি অযৌক্তিকভাবে আটকে রাখা হয়েছে।
এপস্টেইনের সঙ্গে জড়িত ধনী ও ক্ষমতাবান ব্যক্তিদের রক্ষায় কোনো গোপন প্রচেষ্টা চলছে কি না—এ প্রশ্ন ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রে বিতর্ক এখনো অব্যাহত।



