যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে দুই বাংলাদেশি পিএইচডি শিক্ষার্থী হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় চাঞ্চল্যকর নতুন তথ্য প্রকাশ করেছে প্রসিকিউটররা। তদন্তে উঠে এসেছে সন্দেহভাজন রুমমেটের পরস্পরবিরোধী বয়ান, হত্যাকাণ্ডের বিস্তারিত টাইমলাইন এবং ভয়াবহ আলামত, যা পুরো বাংলাদেশি কমিউনিটিকে নাড়িয়ে দিয়েছে।
আদালতের নথি অনুযায়ী, নিহত জামিল লিমন (২৭) ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার একজন পিএইচডি শিক্ষার্থী ছিলেন। তার মরদেহ হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজ এলাকায় উদ্ধার করা হয়। ময়নাতদন্তে জানা গেছে, ধারালো অস্ত্রের একাধিক আঘাতে তাকে হত্যা করা হয়েছে।
এই ঘটনায় লিমনের রুমমেট হিশাম আবুঘারবিয়েহ-এর বিরুদ্ধে লিমন ও তার বন্ধু নাহিদা বৃষ্টি (২৭)-কে হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে। বৃষ্টি এখনও নিখোঁজ থাকলেও তদন্তকারীরা আশঙ্কা করছেন, তাকেও একইভাবে হত্যা করা হয়েছে।
তদন্তে জানা যায়, প্রথমে হিশাম দাবি করেন তিনি ওইদিন ভুক্তভোগীদের দেখেননি। পরে মোবাইল লোকেশন ও অন্যান্য ডিজিটাল প্রমাণের মুখোমুখি হলে তিনি একাধিকবার বয়ান পরিবর্তন করেন। তদন্তকারীরা তার গাড়ির অবস্থান, কেনাকাটার রসিদ এবং অ্যাপার্টমেন্টে বিপুল পরিমাণ রক্তের উপস্থিতির মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে তার সংশ্লিষ্টতার গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পান।
আদালতে দাখিল করা নথিতে বলা হয়েছে, অপরাধের নৃশংসতা, আলামত নষ্টের চেষ্টা এবং জননিরাপত্তার ঝুঁকির কারণে তাকে জামিন না দিয়ে বিচার পর্যন্ত কারাগারে রাখার আবেদন করা হয়েছে।
হিশামের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত প্রথম-ডিগ্রি হত্যার দুটি অভিযোগ ছাড়াও মৃতদেহ গোপন, আলামত ধ্বংস, অবৈধ আটকে রাখা ও হামলাসহ একাধিক গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে।
ফ্লোরিডার এই মর্মান্তিক ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রে অধ্যয়নরত বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। তদন্ত চলমান রয়েছে এবং নিখোঁজ নাহিদা বৃষ্টির সন্ধানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান অব্যাহত রয়েছে।



