বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, ‘একাত্তর হচ্ছে আমাদের ভিত্তি। মুক্তিযুদ্ধকে বাদ দিলে বাংলাদেশের অস্তিত্ব থাকে না। একাত্তরের চেতনা, নব্বইয়ের গণ-অভ্যুত্থান এবং ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করেই আমাদের সামনে এগিয়ে যেতে হবে।’
সোমবার (৬ জানুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে বাম প্রগতিশীল দলগুলোর জোট গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্ট-এর নেতারা সদ্যপ্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে শোক জানাতে গেলে তাদের সঙ্গে বৈঠকে এসব কথা বলেন তারেক রহমান।
বৈঠক শেষে বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশিদ ফিরোজ সাংবাদিকদের জানান, শোক জানানো ছাড়াও দেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা হয়। তিনি বলেন, তারেক রহমান স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে মুক্তিযুদ্ধ বাংলাদেশের রাজনীতির মূল ভিত্তি এবং মতপার্থক্য থাকলেও দেশের স্বার্থে ও জনগণের প্রশ্নে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।
তারেক রহমান বলেন, ‘আমাদের সমাজে আস্তিক-নাস্তিক, বিশ্বাসী-অবিশ্বাসী, সংশয়বাদী সবাই থাকবে। সবাইকে নিয়েই আমরা একটি উদার গণতান্ত্রিক ও কল্যাণমূলক রাষ্ট্র গড়ে তুলতে চাই।’ এ সময় বাম নেতারা রাজনৈতিক সহনশীলতা ও পরমতসহিষ্ণুতার সংস্কৃতি গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং মুক্তিযুদ্ধবিরোধী শক্তি যেন রাজনীতিতে প্রভাব বিস্তার করতে না পারে—সে বিষয়ে সতর্ক করেন।
জামায়াতে ইসলামীর সাম্প্রতিক ‘জাতীয় সরকার’ গঠনের বক্তব্য প্রসঙ্গে তারেক রহমান পরিষ্কার করে বলেন, ‘এ বিষয়ে জামায়াতের সঙ্গে বিএনপির কোনো আলোচনা হয়নি। বাইরে হয়তো তারা বলছে, কিন্তু আমাদের সঙ্গে কোনো কথা হয়নি। স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে ঐক্যের বিষয়েই কেবল আলোচনা হয়েছে।’
বৈঠকে সমালোচনার প্রসঙ্গে বজলুর রশিদ ফিরোজ মন্তব্য করলে তারেক রহমান বলেন, ‘সমালোচনা না থাকলে গণতন্ত্র হয় না। সমালোচনাও থাকবে, আলোচনাও চলবে।’
বৈঠকে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ দলের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্টের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন সিপিবির সাবেক সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম, সভাপতি কাজী সাজ্জাদ জহির চন্দন, সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ আল কাফী রতন, বাসদের সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশিদ ফিরোজ, বাংলাদেশ জাসদের সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক প্রধানসহ বিভিন্ন বাম ও প্রগতিশীল দলের নেতারা।
একই দিন গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকির নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল, আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি), বাংলাদেশ লেবার পার্টি ও নাগরিক ঐক্য-এর নেতারাও তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে শোক প্রকাশ করেন এবং দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও আসন্ন জাতীয় নির্বাচন নিয়ে মতবিনিময় করেন।
এ ছাড়া সোমবার সন্ধ্যায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমেদ খান তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এ সময় তিনি জাতীয় ঐক্যের প্রতীক সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে তারেক রহমানের প্রতি সমবেদনা জানান।



