27 C
Dhaka
Thursday, June 11, 2026

গুম-খুনের ভয়াবহ অভিযোগে বরখাস্ত মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসানের বিচার শুরু আজ

আওয়ামী লীগের দেড় দশকের শাসনামলে শতাধিক মানুষকে গুম ও হত্যার অভিযোগে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় বরখাস্ত সেনা কর্মকর্তা মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসানের বিচার শুরু হচ্ছে আজ রোববার। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল–১-এ প্রসিকিউশনের সূচনা বক্তব্য উপস্থাপনের মধ্য দিয়ে এই বিচারিক কার্যক্রম শুরু হবে।

বিচারপতি গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল এ মামলার শুনানি গ্রহণ করছেন। ট্রাইব্যুনালের অন্য দুই সদস্য হলেন বিচারপতি শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী। আজকের কার্যতালিকায় মামলার প্রথম সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণের কথাও রয়েছে।

এর আগে গত ১৪ জানুয়ারি জিয়াউল আহসানের দায়মুক্তির আবেদন খারিজ করে তাঁর বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ গঠন করেন ট্রাইব্যুনাল। একই সঙ্গে মামলার বিচার শুরুর আদেশ দেওয়া হয়।

🔴 তিনটি গুরুতর অভিযোগ

প্রথম অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১১ সালের ১১ জুলাই রাত সাড়ে ১১টার দিকে র‍্যাব সদর দপ্তর থেকে সজলসহ তিনজন বন্দিকে অবৈধভাবে আটক করে জিয়াউল আহসান ও তাঁর দল গাজীপুরের দিকে নিয়ে যান। ঢাকা বাইপাস সড়কের বিভিন্ন স্থানে গাড়ি থামিয়ে চোখ ও হাত বাঁধা অবস্থায় পর্যায়ক্রমে বন্দিদের গুলি করে হত্যা করা হয়।

দ্বিতীয় অভিযোগে বলা হয়েছে, বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার চরদুয়ানী এলাকা ও বলেশ্বর নদীর মোহনা ছিল পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের অন্যতম কেন্দ্র। গভীর রাতে বন্দিদের ট্রলার বা নৌকায় করে নদীর মাঝখানে নিয়ে মাথা বা বুকে বালিশ চেপে গুলি করা হতো। পরে লাশের পেটে সিমেন্টের ব্লক বেঁধে পানিতে ফেলে দেওয়া হতো। এই হত্যাপদ্ধতিকে ‘গেস্টাপো’ বা ‘গলফ’ কোড নামে পরিচালনা করা হতো। এভাবে সাবেক বিডিআর সদস্য নজরুল ইসলাম মল্লিক ও আলকাছ মল্লিকসহ অন্তত ৫০ জনকে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

তৃতীয় অভিযোগে বলা হয়, তথাকথিত বনদস্যু দমনের নামে সুন্দরবনের বিভিন্ন এলাকায় সাজানো বন্দুকযুদ্ধের মাধ্যমে হত্যা অভিযান চালানো হতো। আগে থেকেই আটক বা গুম হওয়া ব্যক্তিদের বনদস্যু সাজিয়ে নির্ধারিত স্থানে নিয়ে হত্যা করা হতো। ‘অপারেশন নিশানখালী’, ‘অপারেশন মরা ভোলা’ ও ‘অপারেশন কটকা’ নামে পরিচালিত এসব অভিযানে অন্তত ৫০ জনকে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগে বলা হয়েছে। এসব অভিযানে র‍্যাবের বাছাই করা সদস্যরা অংশ নিতেন এবং অনেক ক্ষেত্রে জিয়াউল আহসান নিজেই ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকতেন।

মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত একজন উচ্চপদস্থ সামরিক কর্মকর্তার বিচার শুরু হওয়ায় এ মামলাটি দেশজুড়ে ব্যাপক গুরুত্ব ও নজর কেড়েছে।

Related Articles

Stay Connected

5,000FansLike
4,000FollowersFollow
0SubscribersSubscribe
- Advertisement -spot_img

Latest Articles