নরসিংদীর মাধবদীকে কেন্দ্র করে শুক্রবার সকাল বেলায় আঘাত হানা শক্তিশালী ভূমিকম্পে কয়েক সেকেন্ডের দুলুনিতে আতঙ্কে ছুটে রাস্তায় নেমে আসেন হাজারো মানুষ। শহরজুড়ে বহু ভবন দুলতে থাকে, নানা স্থানে কাঁচা রাস্তায় ফাটল দেখা দেয় এবং পলাশ–ঘোড়াশালে বিদ্যুৎ কেন্দ্রের সাবস্টেশনে অগ্নিকাণ্ড ঘটে। জেলার বিভিন্ন উপজেলায় অন্তত পাঁচজনের মৃত্যুর খবর মিলেছে।
দুলতে থাকে ১৪ তলা ভবন, হাসপাতাল থেকে রোগীদের দৌড়ে নামা
মাধবদীর অন্যতম উঁচু ভবন জে অ্যান্ড জে টাওয়ার ভূমিকম্পে সবচেয়ে বেশি কাঁপতে দেখা যায়। ১৪ তলা ভবনের দ্বিতীয় থেকে চতুর্থ তলা পর্যন্ত বেসরকারি হাসপাতাল এবং ওপরের তলাগুলোতে ফ্ল্যাটের বাসিন্দারা অবস্থান করছিলেন।
হাসপাতালের চেয়ারম্যান সনেট মো. নোমান বলেন,
“পুরো ভবনটা এপাশ-ওপাশ দুলছিল। রোগীসহ সবাই দৌড়ে নিচে নেমে আসছিলেন।”
ভবনের তত্ত্বাবধায়ক ইয়াসির আরাফাত জানান, জীবনে এমন কম্পন তিনি কখনো দেখেননি।
রাস্তায় ফাটল—বিদ্যুৎকেন্দ্রে আগুন
পলাশ উপজেলার দড়িহাওলাপাড়ার বাসস্ট্যান্ডসংলগ্ন পলাশ রেসিডেন্সিয়াল মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের সামনে কাঁচা রাস্তায় বড় ফাটল দেখা যায়, যা ভূমিকম্পের সাথে সাথেই সৃষ্টি হয় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান。
ঘোড়াশাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের একটি সাবস্টেশনেও আগুন ধরে যায়। ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। দুপুরের পর ঘোড়াশাল–পলাশ এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ পুনরায় স্বাভাবিক হয়।
আহত ৮০, আতঙ্কে ছুটে রাস্তায় মানুষ
নরসিংদী সদর হাসপাতাল ও বিভিন্ন বেসরকারি ক্লিনিকে মোট ৮০ জন আহত ব্যক্তি চিকিৎসা নিয়েছেন বলে পুলিশ জানিয়েছে। অনেকে দৌড়ে নামতে গিয়ে হাত–পায়ে আঘাত পান।
ছোট মাধবদীর বাসিন্দা জসিম মিয়া বলেন,
“জীবনে এমন ঝাঁকুনি দেখিনি। সবাই শুধু আল্লাহকে ডাকছিল।”
গৃহবধূ সালমা আক্তার জানান, পাঁচতলা থেকে তাড়াহুড়ো করে নামতে গিয়ে তাঁর পায়ে ব্যথা পেয়েছেন।
মৃত্যু ৫ জনের — দেয়াল ধস, নির্মাণসামগ্রী ছিটকে, গাছ থেকে পড়ে মৃত্যু
জেলার তিন উপজেলায় মোট পাঁচজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।
- নরসিংদী সদরে বাবা–ছেলে নিহত হন পার্শ্ববর্তী বহুতল ভবনের নির্মাণসামগ্রী ছিটকে ছাদ ধসে পড়লে।
- পলাশে মাটির ঘরের দেয়াল ধসে মারা যান ৭৫ বছর বয়সী কাজম আলী ভূঁইয়া।
- একই উপজেলায় ভূমিকম্পের মুহূর্তে স্ট্রোকে নিহত হন নাসির উদ্দীন (৬৫)।
- শিবপুরে গাছ থেকে পড়ে আহত হয়ে মারা যান ফোরকান মিয়া (৩৫)।
খামার ও ভবনে ফাটল
পলাশের লেবুপাড়ার ঘোড়াশাল ডেইরি ফার্মের আঙিনায় লম্বা ফাটল দেখা দেয়।
মারকাসুল সুন্নাহ তাহফিজুল কোরআন মাদ্রাসার ছয়তলা ভবনের চার–পাঁচটি স্থানেও ফাটল তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছেন মাদ্রাসার পরিচালক।
জনজীবনে আতঙ্ক, ক্ষয়ক্ষতির প্রভাব এখনো চূড়ান্ত নয়
ঘটনার পর এখনও অনেকে ঘরে ফিরতে ভয় পাচ্ছেন। প্রশাসন ক্ষয়ক্ষতির হিসাব করছে।



