আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার প্রস্তুতি চূড়ান্ত করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। কমিশন সূত্রে জানা গেছে, আসছে ১১ ডিসেম্বর তফসিল ঘোষণার জোর সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত জাতীয় পার্টিসহ নিবন্ধিত সাতটি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে কোনো নির্বাচনী সংলাপ হয়নি, এবং সামনে তা হওয়ারও সম্ভাবনা নেই।
সংলাপ হয়নি ৭ দলের সঙ্গে
ইসির তথ্যমতে, বর্তমানে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল সংখ্যা ৫৫ হলেও সংলাপে আমন্ত্রণ দেওয়া হয়েছিল ৪৮ দলকে। সংলাপে আমন্ত্রণ পায়নি:
- জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ)
- বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি
- সাম্যবাদী দল
- জাতীয় পার্টি–জেপি (মঞ্জু)
- তরীকত ফেডারেশন
- গণতন্ত্রী পার্টি
- জাতীয় পার্টি (জাপা)
ইসি জানায়, ১৪ দলীয় শরিক এবং অতীতের “প্রহসনমূলক নির্বাচনে” অংশ নেওয়া দল হওয়ায় তাদের সংলাপে ডাকা হয়নি।
জাতীয় পার্টি নিয়ে কমিশনের ‘সন্ধেহ’
নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন —
“জাতীয় পার্টির ভেতরে দ্বন্দ্ব চলছে। কে প্রকৃত প্রতিনিধিত্ব করছে, তা আমরা নিশ্চিত নই। তাই সংলাপে ডাকা সম্ভব হয়নি।”
তবে তফসিলের পর সংলাপের সম্ভাবনাও তিনি নাকচ করেন।
‘গণঅধিকার পরিষদের চাপেই ডাকেনি ইসি’ — জাতীয় পার্টি
জাপা মহাসচিব ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী অভিযোগ করেন —
“গণঅধিকার পরিষদের হুমকির মুখে ইসি আমাদের ডাকতে সাহস পায়নি। নিবন্ধিত দল হয়েও আমন্ত্রণ না পাওয়া ইসির কাপুরুষতা।”
তিনি আরও বলেন, ইসির এই আচরণ সুষ্ঠু ভোট নিয়ে শঙ্কা সৃষ্টি করেছে।
তবে নির্বাচন করতে বাধা নেই
ইসির মতে, দলগুলো নিষিদ্ধ নয়, তাই চাইলে নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে।
সংলাপে দলগুলোর প্রধান দাবি
সংলাপে অংশ নেওয়া দলগুলো বেশ কিছু দাবি তোলে:
- জামানত কমানো
- ব্যয়সীমা বাস্তবিকভাবে নিয়ন্ত্রণ
- বিভাগওয়ারি ভোট
- ভোটকেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা
- পোস্টার–ব্যানার ব্যবহারের নিয়ম শিথিল
- জোটের একক প্রতীক পুনর্বহাল
তবে এসব দাবি প্রত্যাখ্যান করে ইসি জানায়—
“আরপিও ও আচরণবিধিতে যা পরিবর্তন হয়েছে, তা-ই বহাল থাকবে।”
তফসিল না হয়েও সংকটে সংলাপ
ইসি শুরুতে জানিয়েছিল, বাদ যাওয়া দলগুলোর বিষয়ে পরে সিদ্ধান্ত হবে। কিন্তু তফসিলের সময় ঘনিয়ে এলেও এখনো কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি। ফলে নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে এই বাদ পড়া সাত দল।



