ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদির ওপর হামলার ঘটনায় জড়িতদের দেশত্যাগ রোধে সীমান্তে সর্বোচ্চ সতর্কতা নিশ্চিত করতে কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। একই সঙ্গে হামলাকারী ও এর নেপথ্যে থাকা পরিকল্পনাকারীদের দ্রুততম সময়ের মধ্যে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) রাতে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত এক জরুরি বৈঠকে এসব নির্দেশনা দেন প্রধান উপদেষ্টা। বৈঠকে উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যদের পাশাপাশি পুলিশ, সশস্ত্র বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে ড. ইউনূস বলেন, হামলাকারীরা যেন কোনোভাবেই দেশ ছাড়তে না পারে, সে জন্য সীমান্তসহ সব সংশ্লিষ্ট স্থানে এখনই সর্বোচ্চ নজরদারি নিশ্চিত করতে হবে। তিনি হাদির ওপর হামলাকে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মেয়াদকালের অন্যতম উদ্বেগজনক ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, এটি বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অভিযাত্রার ওপর সুপরিকল্পিত আঘাত।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “এই হামলার মাধ্যমে পরাজিত শক্তি দেশের অস্তিত্ব ও গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রাকে চ্যালেঞ্জ করার দুঃসাহস দেখিয়েছে। এ ধরনের অপচেষ্টা আমরা কোনো অবস্থাতেই বরদাশত করব না।”
জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নে গণভোটকে বানচাল করার ষড়যন্ত্র চলছে বলেও মন্তব্য করেন ড. ইউনূস। তিনি বলেন, “যত ঝড়-তুফানই আসুক, কোনো শক্তিই আসন্ন নির্বাচন ও গণভোটকে ব্যাহত করতে পারবে না। আমরা দেশের জনগণকে সঙ্গে নিয়ে শান্তিপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করব।”
বৈঠকে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বিষয়ক বিশেষ সহকারী মো. সায়েদুর রহমান জানান, শরীফ ওসমান হাদির শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন। পরিবারের ইচ্ছায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “যে করেই হোক, দ্রুততম সময়ের মধ্যে হামলাকারী ও হামলার পরিকল্পনাকারীদের আইনের আওতায় আনতে হবে।”
তিনি দেশবাসীকে শরীফ ওসমান হাদির দ্রুত সুস্থতার জন্য মহান আল্লাহর কাছে দোয়া করার আহ্বান জানান।



