26.8 C
Dhaka
Wednesday, June 10, 2026

আগাম সতর্কতার পরও ঠেকানো গেল না হামলা: টার্গেট কিলিংয়ের তালিকায় ছিলেন শরিফ ওসমান হাদি

সন্ত্রাসীদের গুলিতে গুরুতর আহত ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও ঢাকা-৮ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য প্রার্থী শরিফ ওসমান বিন হাদির ওপর হামলার ঘটনায় নতুন করে চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, এই হামলার বিষয়ে সরকারকে আগেই স্পর্শকাতর ও নির্ভরযোগ্য তথ্য দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু কার্যকর কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় শেষ পর্যন্ত হামলা ঠেকানো সম্ভব হয়নি—এমন অভিযোগ উঠেছে।

শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হাদি বর্তমানে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে সংকটাপন্ন অবস্থায় চিকিৎসাধীন। সূত্র জানায়, এটি ছিল পূর্বপরিকল্পিত একটি ‘টার্গেট কিলিং’ চেষ্টা। ওই তালিকায় হাদির পাশাপাশি জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ ও আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদের নামও ছিল।

জানা গেছে, গত সেপ্টেম্বরে যুক্তরাজ্যপ্রবাসী একজন আইনজীবীর মাধ্যমে এই হত্যার হুমকিসংক্রান্ত তথ্য সরকারের গোয়েন্দা সংস্থা ও উচ্চপর্যায়ের দায়িত্বশীলদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়। এমনকি হাদি, হাসনাত আবদুল্লাহ ও ব্যারিস্টার ফুয়াদ নিজেরাও একাধিকবার হুমকির বিষয়টি সংশ্লিষ্ট মহলের নজরে আনেন।

সূত্র মতে, যুক্তরাজ্যপ্রবাসী ওই আইনজীবী বিভিন্ন দেশের নিরাপত্তা সংস্থার সঙ্গে পেশাগত সম্পৃক্ততার কারণে এসব স্পর্শকাতর তথ্য পান। তিনি সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করে জানান, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে বড় ধরনের বিপদ আসন্ন। এরপর তিনি ঢাকায় এসে তিন জুলাই সংগঠকের সঙ্গে একাধিক বৈঠক করেন এবং সরকারের উচ্চপর্যায়ে বিষয়টি তুলে ধরতে সহায়তা করেন।

এ প্রসঙ্গে ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বলেন, “অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য সূত্রে পাওয়া তথ্য আমরা সরকারকে জানিয়েছিলাম। কিন্তু দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। শুধু ব্যক্তিগত নিরাপত্তা দিয়ে এ ধরনের হুমকি মোকাবিলা সম্ভব নয়।” তিনি আরও বলেন, “নির্বাচনের আগে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে বড় ধরনের অভিযান ছাড়া সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করা কঠিন।”

সূত্র জানায়, সরকার থেকে বডিগার্ড নেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হলেও মাঠের রাজনীতি ও জনসংযোগে বাধার কথা বিবেচনা করে জুলাই সংগঠকরা এতে সম্মত হননি।

এদিকে হামলার ঘটনায় বিদেশে অবস্থানরত ভাড়াটে সন্ত্রাসীদের সম্পৃক্ততার ইঙ্গিত পেয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। পুলিশ সূত্র জানায়, ‘ফিলিপ ওরফে গারো ফিলিপ’ নামের এক ভাড়াটে কিলারের সংশ্লিষ্টতার তথ্য মিলেছে। তাকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। ফিলিপকে আটক করা গেলে পুরো কিলিং মিশনের নেপথ্যের তথ্য উদঘাটন সম্ভব হবে বলে আশা করছে তদন্তকারীরা।

এই বিষয়ে সরকারের বক্তব্য জানতে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ও আইজিপির সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে আইজিপি বাহারুল আলম খুদেবার্তায় জানিয়েছেন, “এ ধরনের নির্দিষ্ট কোনো তথ্য আমরা পাইনি।”

ঘটনাটি ঘিরে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে উদ্বেগ বাড়ছে। সংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান না হলে আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সহিংসতার ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে।

Related Articles

Stay Connected

5,000FansLike
4,000FollowersFollow
0SubscribersSubscribe
- Advertisement -spot_img

Latest Articles