দেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে তাঁর দল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় পার্টির (জাপা) চেয়ারম্যান জি এম কাদের। রোববার রাতে রংপুর সফরে এসে নগরের সেনপাড়ায় নিজ বাসভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন।
জি এম কাদের বলেন, তারেক রহমানকে যেভাবে এবং যে প্রক্রিয়ায় রাজনীতি থেকে বাদ দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল, তা কোনো সময়ই সমর্থনযোগ্য ছিল না। এখন তিনি আবার রাজনীতিতে সক্রিয় হয়েছেন এবং তুলনামূলকভাবে তরুণ নেতৃত্ব হিসেবে বাংলাদেশের বর্তমান চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ভূমিকা রাখার সুযোগ রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন জাপা চেয়ারম্যান।
তিনি বলেন, “বাংলাদেশে এখন সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন রাজনৈতিক সহাবস্থান। হিংসা, মারামারি নয়—সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে দেশের জন্য দাঁড়াতে হবে। তারেক রহমান তাঁর প্রথম বক্তব্যেই এই বার্তা দিয়েছেন, যা আমার ভালো লেগেছে। দেশের রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে অর্থনৈতিক ও সামাজিক সংকট বাড়ছে। এসব সমস্যা কাটিয়ে উঠতে তাঁর নেতৃত্বে বিএনপি বড় ভূমিকা রাখতে পারে।”
সত্যিকার অর্থে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা আনতে হলে সব দলের অংশগ্রহণে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন প্রয়োজন বলেও মত দেন জি এম কাদের। তবে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, “নির্বাচনের পরিবেশ নিয়ে আমরা অন্তত একটি খারাপ অবস্থান লক্ষ করছি। অতীতের অনেক নির্বাচন খারাপ হয়েছে। এবারকার নির্বাচন আগেরগুলোর চেয়ে কতটা খারাপ বা সমকক্ষ হবে, তা সামনে দেখা যাবে।”
নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড না পাওয়ার অভিযোগ তুলে জাপা চেয়ারম্যান বলেন, জাতীয় পার্টির তিনজন প্রার্থী বর্তমানে কারাগারে নিপীড়নের শিকার হচ্ছেন এবং অনেক প্রার্থীর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা রয়েছে। পুলিশ ও প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের পক্ষ থেকে গ্রেপ্তারের আশঙ্কা তৈরি করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন জি এম কাদের। তাঁর ভাষায়, “নির্বাচন কমিশন আমাদের সঙ্গে বিমাতাসুলভ আচরণ করছে। এখনো তাদের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ পাইনি। মনোনয়ন ফরমে এমন কিছু জটিল বিষয় রাখা হয়েছে, যার মাধ্যমে কিছু প্রার্থীকে বাতিল করা হতে পারে।”
জাতীয় পার্টি শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে থাকবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “আমরা নির্বাচনে থাকার জন্যই এসেছি। আমাদের ওপর অন্যায় হচ্ছে জেনেও আমরা চ্যালেঞ্জ হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছি। যদি থাকতে পারি, শেষ পর্যন্ত থাকব। তবে যদি বাধ্য করা হয়, তখন পরিস্থিতি অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নিতে হতে পারে।”
জাতীয় পার্টি আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসন করছে—এমন অভিযোগ নাকচ করে জি এম কাদের বলেন, বর্তমান সরকার ও নির্বাচন কমিশন ‘আওয়ামী ফোবিয়ায়’ ভুগছে। জোট প্রসঙ্গে তিনি জানান, এখন পর্যন্ত জোটে যাওয়ার সম্ভাবনা কম, তবে কারও সঙ্গে সমঝোতা হতে পারে।
তিন দিনের সফরে রোববার সন্ধ্যায় রংপুরে পৌঁছান জাপা চেয়ারম্যান। নীলফামারীর সৈয়দপুর বিমানবন্দরে তাঁকে স্বাগত জানান দলের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা। রংপুরে পৌঁছে প্রথমে তিনি মুন্সিপাড়া কবরস্থানে তাঁর বাবা-মায়ের কবর জিয়ারত করেন এবং পরে দর্শনা পল্লী নিবাসে জাপার প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ও সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের কবর জিয়ারত করেন।



