26.8 C
Dhaka
Wednesday, June 10, 2026

রাষ্ট্রীয় আচার বলেই শহীদ মিনারে: সমালোচনার মুখে ব্যাখ্যা দিলেন শফিকুর রহমান

ভাষাশহীদ দিবসে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ফুল দেওয়াকে ‘রাষ্ট্রীয় আচার’-এর অংশ হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান। শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) প্রথম প্রহরে ঢাকার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ভাষাশহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

ভাষাশহীদ ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে এবারই প্রথমবারের মতো জামায়াতের শীর্ষ নেতা হিসেবে শহীদ মিনারে ফুল দেন শফিকুর রহমান। অতীতে দলটির পক্ষ থেকে শহীদ মিনারে ফুল দেওয়া ‘অনৈসলামিক’ বলে মন্তব্য করার নজির থাকায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “এবার রাষ্ট্রীয় আচার হিসেবে… এটা আমার দায়িত্ব। বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে আমাকে আসতে হবে আমার সঙ্গীদের নিয়ে। তাই আমি এসেছি।”

বিরোধীদলীয় নেতার নতুন ভূমিকায়

গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৬৮টি আসনে জয় পেয়ে সংসদে প্রধান বিরোধী দলের আসনে বসতে যাচ্ছে জামায়াতে ইসলামী। তাদের নেতৃত্বাধীন ১১–দলীয় জোট পেয়েছে মোট ৭৭টি আসন। এরই মধ্যে বিরোধীদলীয় নেতা নির্বাচিত হয়েছেন শফিকুর রহমান।

একুশের প্রথম প্রহরে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে ভাষাশহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। তাঁদের পর বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে শহীদ বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন শফিকুর রহমান।

এ সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন জামায়াতের নায়েবে আমির এ টি এম আজহারুল ইসলাম ও মুজিবুর রহমান, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, সদস্যসচিব আখতার হোসেন এবং দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহসহ অন্য নেতারা। ফুল দেওয়ার পর শহীদ মিনারে দাঁড়িয়েই ভাষাশহীদদের জন্য দোয়া ও মোনাজাত করেন তাঁরা।

সব আন্দোলনের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে শফিকুর রহমান বলেন, ভাষাশহীদদের পাশাপাশি ১৯৪৭, ১৯৫২, ১৯৭১, ১৯৯০–এর গণঅভ্যুত্থান এবং সাম্প্রতিক আন্দোলনগুলোতে নিহতদেরও তাঁরা শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন।

তিনি বলেন, “আমরা ভাষাশহীদদের স্মরণ করি, একাত্তরের শহীদদের স্মরণ করি, ৯০–এর গণ–অভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণ করি, গত সাড়ে ১৫ বছরে যারা শহীদ হয়েছেন তাঁদের স্মরণ করি। বিশেষ করে যারা জুলাই যোদ্ধা হিসেবে জাতির অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য জীবন দিয়েছেন, তাঁদেরও স্মরণ করি।”

তবে শহীদ মিনারে ফুল দেওয়া এখনো ‘নাজায়েজ’ মনে করেন কিনা—এ প্রশ্নের সরাসরি জবাব না দিয়ে পাল্টা প্রশ্ন করেন জামায়াত আমির। এরপর আর কোনো মন্তব্য না করে তিনি শহীদ মিনার ত্যাগ করেন।

দলীয়ভাবে শহীদ মিনারে ফুল দেওয়ার কর্মসূচি না থাকলেও বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে শফিকুর রহমানের অংশগ্রহণের কথা আগেই জানানো হয়েছিল। রাজনৈতিক অঙ্গনে এ পদক্ষেপকে জামায়াতের অবস্থানগত পরিবর্তনের ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন অনেকে।

Related Articles

Stay Connected

5,000FansLike
4,000FollowersFollow
0SubscribersSubscribe
- Advertisement -spot_img

Latest Articles