নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সঙ্গে বৈঠক শেষে গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর বলেছেন, ‘প্রতীক নিয়ে নির্বাচন কমিশনকে বিতর্কিত করা কোনো রাজনৈতিক দলেরই উচিত নয়।’
বুধবার (২৯ অক্টোবর) সন্ধ্যায় ইসির সঙ্গে বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন।
নুর বলেন, ‘নির্বাচনের সংলাপে ফ্যাসিবাদের দোষরদের রাখা যাবে না। নির্বাচনে সাংবাদিকদের দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে কোনো বিধিনিষেধ আরোপ করা যায় না।’
দলীয় প্রতীক নিয়ে জোটভুক্ত নির্বাচনে অংশগ্রহণের বিধানকে গণঅধিকার পরিষদ ইতিবাচকভাবে দেখছে বলে জানান তিনি।
নুর আরও বলেন, ‘বাটিচালান দিলেও ১৪ দলের অফিস খুঁজে পাওয়া যায় না। শান্তিপূর্ণ নির্বাচন চাইলে লীগের পাশাপাশি জাতীয় পার্টিকেও ট্রাইব্যুনালে বিচারের মুখোমুখি করতে হবে। জুলাই সনদ নিয়ে দলাদলি শুরু হলে নির্বাচন পিছিয়ে যাবে, যা দেশকে অস্থিতিশীল করে তুলবে।’
তিনি জানান, গণঅধিকার পরিষদ ৩০০ আসনেই প্রার্থী দিতে চায়। তবে জোটবদ্ধভাবে নির্বাচনে অংশ নেওয়া হবে কি না, তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। নুর বলেন, ‘বিএনপি ও জামায়াতের সঙ্গে আলোচনা চলছে। পাশাপাশি আলাদা করে বিকল্প জোট গঠনের বিষয়েও ভাবনা রয়েছে।’
এদিন বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে নির্বাচন কমিশনে প্রবেশ করে গণঅধিকার পরিষদের সাত সদস্যের প্রতিনিধি দল। প্রায় এক ঘণ্টাব্যাপী বৈঠকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) ও অন্যান্য কমিশনাররা উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে গণঅধিকার পরিষদের পক্ষ থেকে নয়টি প্রস্তাবনা তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে অন্যতম ছিল—
- অন্তর্বর্তী সরকারের কোনো উপদেষ্টা যেন আগামী নির্বাচনে অংশ নিতে না পারেন, সে বিষয়ে বিধান প্রণয়ন;
- প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা স্থাপন;
- সাংবাদিকদের অবাধে দায়িত্ব পালনের নিশ্চয়তা;
- এবং নির্বাচনী পরিবেশে সকল রাজনৈতিক দলের সমান সুযোগ নিশ্চিত করা।
নুর বলেন, ‘নির্বাচনকে বিশ্বাসযোগ্য করতে হলে সরকারের প্রভাবমুক্ত একটি পরিবেশ তৈরি করতে হবে। ব্যয়বহুল হলেও প্রতিটি কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা স্থাপন জরুরি।’
এর আগে, গণঅধিকার পরিষদের প্রতিনিধিদল নির্বাচন কমিশনের আহ্বানে আয়োজিত সংলাপে অংশ নেয়।



