দক্ষিণ এশিয়ার ফুটবলে দীর্ঘদিন ধরেই অন্যতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ ও ভারত। দুই দেশের লড়াই যেমন উত্তেজনাপূর্ণ, তেমনি স্মৃতিতে ভরপুর অসংখ্য গল্প। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দুই দল মুখোমুখি হয়েছে মোট ২৯ বার। এর মধ্যে ১৩টি ম্যাচ ড্র, ১৩টি জিতেছে ভারত, আর ৩টি জয়ে মুখ উজ্জ্বল করেছে বাংলাদেশ।
⚽ পুরোনো রোমাঞ্চ, নতুন প্রত্যাশা
এক সময় ভারত–বাংলাদেশ ম্যাচ মানেই ছিল তুমুল লড়াই। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ভারত এগিয়ে গেছে অনেকটা, তবে হাভিয়ের কাবরেরার অধীনে নতুনভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশও। হামজা চৌধুরী ও শমিত শোমদের মতো খেলোয়াড় আসায় সমর্থকদের আগ্রহ বেড়েছে বহুগুণ। এ বছরের মার্চে শিলংয়ে এশিয়ান কাপ বাছাইয়ে গোলশূন্য ড্র ছিল সেই প্রমাণ।
⚽ বাংলাদেশের ভুলতে চাওয়া স্মৃতি
১৯৭৮ সালের ব্যাংকক এশিয়াডে ভারতের কাছে ৩–০ গোলে হেরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে অভিষেকের তেতো স্বাদ পেয়েছিল বাংলাদেশ।
১৯৯৭ কাঠমান্ডু সাফেও ৩–০ গোলে ভরাডুবি—দুই ম্যাচই আজও কষ্টের স্মৃতি।
⚽ এগিয়ে থেকেও আফসোস
ভারতের বিপক্ষে অনেক ম্যাচেই এগিয়ে থেকেও জয় তুলে নিতে পারেনি বাংলাদেশ।
বিশেষ করে ২০১৯ সালের কলকাতা—প্রায় জিততে জিততে শেষ মুহূর্তে ড্র!
⚽ নিরপেক্ষ ভেন্যুতে ভারতের আধিপত্য
নিরপেক্ষ মাঠে ভারত এগিয়ে ৫–২। তবে বাংলাদেশের বড় জয় ছিল ১৯৯৯ সাফ সেমিফাইনালে শাহাজউদ্দিন টিপুর দুর্দান্ত গোলের ম্যাচটি।
⚽ উত্তেজনার ম্যাচ ও বিতর্ক
১৯৮৫ ঢাকার সাফ ফাইনাল থেকে শুরু করে ২০০৫ করাচি—অনেক ম্যাচেই দর্শক উত্তেজনায় গ্যালারি উত্তাল হয়ে উঠেছে। রেফারির সিদ্ধান্ত নিয়ে আপত্তির জেরে কখনো ম্যাচ থেমেছে, কখনো খেলোয়াড় পেয়েছেন কঠোর শাস্তি।
⚽ স্মরণীয় গোল
আসলামের ১৯৮৫ সালের ভলি, নূরুল হক মানিকের ২৫ গজের শট, রুমি–আলফাজের দূরপাল্লার গোল—সবই আজও ভক্তদের হৃদয়ে অমলিন। আর ২০০৩ সাফে মতিউরের ‘গোল্ডেন গোল’ তো ইতিহাস।
⚽ সাম্প্রতিক সমীকরণ
২০২১ সালে ভারত সর্বশেষ বাংলাদেশকে হারায় দোহায়, ২–০ গোলে। এরপর দুদলের দুই ম্যাচই ড্র। আজকের লড়াইয়ের আগে তাই ইতিহাস–পরিসংখ্যান—সব মিলিয়েই উত্তেজনা তুঙ্গে।



